অনন্যা সরকার, নদিয়া: মিড-ডে মিলের (Mid Day Meal) মাংস চুরি করে হচ্ছে শিক্ষকের বিবাহ বার্ষিকীর আয়োজন! এমনই অভিযোগ উঠেছে নদিয়া, শান্তিপুরের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (Primary School)। ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ খাবার ও মাংস চুরি করে স্কুলের মধ্যেই শিক্ষকের বিবাহ বার্ষিকী পালনের আয়োজন চলছে বলে মিড-ডে মিল কর্মীদের সাথে শিক্ষকদের তুমুল অশান্তি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় শান্তিপুর থানার পুলিশকে।
মিড-ডে মিলের খাবার চুরির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার শান্তিপুরের নতুন পাড়া জনকল্যাণ বুনিয়াদি শিক্ষালয়ে মিড-ডে মিলের খাবার চুরি নিয়ে শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে বচসার সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। শিক্ষকরা বলেন মিড-ডে কর্মীরা ছাত্রছাত্রীদের খাবারে ভাগ বসায়। প্রতিদিনই রান্না করা খাবার বাড়ি নিয়ে যায়। অন্যদিকে, কর্মীরা বলেন শিক্ষকরা ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ মাংস-ডিম আলাদা করে রান্না করেন, এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই খাবার পরিবেশনও করেন।
এদিন এরকমই এক শিক্ষকের বিবাহ বার্ষিকীর পালন করা হচ্ছিল স্কুলের মধ্যেই। মিড-ডে কর্মীরা অভিযোগ করেন, তাদের সকালবেলাতেই বলে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের জন্যে আসা মাংস থেকে কিছুটা মাংস আলাদা করে তুলে রাখতে, যা শিক্ষিকারা পরে রান্না করে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করবেন। বহুদিনের চাপা অসন্তোষ তো ছিলই, এই ঘটনা আগুনে ঘি ঢালে। ঘটনাটি জানতে পারেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা স্কুলে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ জানান, অনেকদিন ধরেই পড়ুয়াদের যথাযথভাবে ও সঠিক পরিমাণে খাবার পরিবেশন করে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। মাঝে মাঝেই রান্না করা খাবার স্কুলের বাইরে চলে যায়। স্কুল থেকে তাদের সন্তানদের প্রাপ্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন বাবা-মায়েরা।
ফুলের মধ্যে অনুষ্ঠান পালনের কথা স্বীকার করে নিলেও খাবার চুরির অভিযোগ মানতে চাননি শিক্ষকেরা। উল্টে তারা আঙ্গুল তোলেন রান্নার কর্মীদের ওপর। নতুন পাড়া জনকল্যাণ বুনিয়াদি শিক্ষালয়ের প্রধান শিক্ষিকাও মন্তব্য করেন, মিড-ডে মিলের কর্মীরাই খাবার চুরি করে। সেদিন স্কুলে একটি অনুষ্ঠান হওয়ায় তারা বাইরে থেকে মাংস আনিয়ে রান্না করছিলেন। পড়ুয়াদের খাবারের ভাগ বসানো হয়নি। তবে স্কুলের মধ্যে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান পালন নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি এড়িয়ে যান প্রধান শিক্ষিকা।
আরও পড়ুনঃ মাঠে চরাতেন গরু-মহিষ, ছিল না ফি দেওয়ার টাকা! UPSC ক্র্যাক করে প্রতাপ আজ IPS
আবার, মিড-ডে মিল কর্মীরা শিক্ষকদের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে বলেছেন, কোনো রান্নার কর্মী বাড়িতে খাবার নিয়ে যায় না বরং শিক্ষকরাই পড়ুয়াদের খাবার থেকে সরিয়ে নিজেরা আলাদা করে রান্না করেন। তুমুল বাগবিতণ্ডা আরম্ভ হওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার পুলিশ। স্কুলে মিড-মিলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগের উপযুক্ত তদন্ত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।










