প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আরও বিপাকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)! এবার তোলাবাজি মামলায় (Extortion Case) তাঁর নামে থাকা পাঁচটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হল। জানা গিয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে একটি তাঁর স্ত্রী ইন্দিরা দত্তের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত। পাশাপাশি সব্যসাচীর নামে থাকা দুটি ব্যাঙ্ক লকারেরও খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আর সেখানে মূল্যবান গয়না বা অন্যান্য সম্পদ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
৭ ঘণ্টারও বেশি তল্লাশি বাসভবনে
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন গভীর রাতে সল্টলেকের ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর দায়ের করা FIR-এর ভিত্তিতে প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক কোটি টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সব্যসাচী। এমতাবস্থায় ২ দিন আগে বিধায়কের বাসভবনে ৭ ঘণ্টারও বেশি তল্লাশি চালিয়ে ৫০ কেজি সোনা কেনার নথি পাওয়া গিয়েছিল। পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার হয়েছিল। আর এবার প্রাক্তন বিধায়কের ৫টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হল।
সব্যসাচী দত্তের পাঁচটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ!
প্রাপ্ত রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যার মধ্যে একটি স্ত্রী ইন্দিরা দত্তের সঙ্গে যৌথ অ্যাকাউন্ট রয়েছে সব্যসাচীর। সব মিলিয়ে পাঁচটি অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার মতো রয়েছে। এছাড়াও ব্যাঙ্কে দুটো লকার রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে সেখানে গয়না থাকতে পারে। কিন্তু এসবের মাঝে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না প্রাক্তন বিধায়কের স্ত্রীর। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পেলেও তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। অন্যদিকে সব্যসাচীর ব্যবহৃত একটি স্করপিও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এছাড়াও নিউটাউনে তাঁর আরও একটি ফ্ল্যাটের হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে বর্ধমান উত্তরের বিজেপি প্রার্থী
গতকাল, মঙ্গলবার, সব্যসাচী দত্তের শ্বশুরবাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা গাইঘাটায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি বলেই জানা গিয়েছে। শেষ আপডেট অনুযায়ী জানা গিয়েছে আজ, বুধবার বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। এবং তদন্তের অগ্রগতির ক্ষেত্রে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।










