১০৮ ধর্মীয় সার্কিট থেকে চা বাগান, হোমস্টে নীতি নিয়ে এবার বড় চমক আনছেন শঙ্কর ঘোষ

Published:

West Bengal Tourism

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে, আর এই ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এবার রাজ্যে পর্যটন শিল্প (West Bengal Tourism) নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, পর্যটনকে আরও ছড়িয়ে দিতে নতুন হোম-স্টে (New Homestay Policy নীতি তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পর্যটনকে আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দিতে ময়দানে নামল পর্যটন দফতর। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে পুজোর আগে বড় চমক আনতে চলেছে প্রশাসন।

বৈঠকে বিশেষ আলোচনা শঙ্কর ঘোষের

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ নতুন হোম-স্টে নীতি নিয়ে যে নয়া পরিকল্পনা আনতে চলেছেন তা নিয়ে বিশেষ বক্তব্য পেশ করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে এই পর্যটন শিল্প। এদিন বৈঠকে শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন যে, “রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানকে যুক্ত করে ১০৮টি রিলিজিয়াস সার্কিট তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন নবদ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলি।” শুধু তাই নয় রাজ্যের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে ‘চা বাগানে থাকুন’ শীর্ষক একটি নতুন ভাবনার কথা জানান মন্ত্রী।

ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

গ্রিন হোমস্টে-র উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। মূলত ‘হাই-এন্ড’ বা বিলাসবহুল পর্যটকদের আকর্ষণ করতে চা-বাগানের ঐতিহ্যবাহী বাংলো এলাকাগুলিতে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা ও চুক্তি করা হচ্ছে। তাতে দার্জিলিং ম্যাল ও শিলিগুড়িতে চা উৎসব এবং সিটংয়ে অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে। এছাড়াও রাজ্যের হোম-স্টে, ট্যুর অপারেটর এবং ট্যুরিস্ট বাস অপারেটরদের জন্য ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সেজন্য আলাদা মোবাইল অ্যাপ বানানো হচ্ছে, যার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং দ্রুত তা আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করা হবে। স্বাস্থ্য পর্যটন বা ‘মেডিক্যাল ট্যুরিজম’ প্রসারে পৃথক নীতি আনছে পর্যটন দফতর।

বিশেষ ‘ড্রেস কোড’ পরা বাধ্যতামূলক

জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বকর্মা পুজোয় কলকাতার গড়ের মাঠে ঘুড়ি ও বেলুন উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। ব্যারাকপুরের উৎসধারা থিম পার্ক ‘ফ্রম রাজ টু স্বরাজ’ থিমে সাজানো হবে যেটি আগামী ২ অক্টোবর থেকে চালু হতে পারে। চন্দননগরের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি বিল্ডিংকে নবরূপে সাজানো হবে। শুধু তাই নয়, বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে ১৫০ হেক্টর এলাকা জুড়ে ‘নগরবন’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বাঙালির ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে বিশেষ কিছু দিনে দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক বা ‘ড্রেস কোড’ পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ওষুধে ছাড় মিলবে ৮০%, স্টেন্টেও থাকবে বড় ছাড়…অমৃত ফার্মেসি নিয়ে বিশেষ ভাবনা সরকারের

অন্যদিকে বাংলার টেবিল টেনিস দলকে পর্যটন দফতর স্পনসর করবে এবং ভারতীয় জাতীয় টেবিল টেনিস দলকেও স্পনসর করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এদিন বৈঠকে চা-বাগানের জমি নীতি নিয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন পর্যটন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকার চা-বাগানের জমি ব্যবহারের সীমা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে কেন ৩০ শতাংশ করেছিল এবং এই বিপুল পরিমাণ জমি হস্তান্তরের পেছনে কী রহস্য রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তিনি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।