সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের আমলে দুর্নীতি নেই এমন কোনও খাত দেখানো দুষ্কর। তবে সেই তালিকায় প্রথমেই থাকবে চাকরি দুর্নীতি। ২০১৬ সালে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি গিয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার প্রার্থীর। তবে এবার ১২ হাজার পুলিশ কনস্টেবল (Constable) নিয়োগে বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের। নিয়োগের ফল প্রকাশের উপর স্থগিতাদেশ দিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গেল বেঞ্চ। এমনকি পুলিশ নিয়োগ বোর্ডকে পাবলিক নোটিশ দেওয়ারও আদেশ হাইকোর্টের।
পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরাট ধাক্কা আদালতে
আসলে ২০২৪ সালে ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয় রাজ্য পুলিশে। তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ফলপ্রকাশের পরই তৈরি হয় সমস্যা। মেধা তালিকা সামনে আসতেই চাকরি প্রার্থীদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দেয় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকি সেই ইস্যু আদালত পর্যন্ত গড়ায়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক আবেদনকারী বিভিন্ন রকম অভিযোগ তোলেন। সেই মামলার শুনানি ছিল আজ। সেখানেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্থগিতাদেশের ঘোষণা করেছেন।
জানা গিয়েছে, ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ এর নভেম্বর মাসে। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারভিউর জন্য ডাকা হয়। তবে তারপরেই ক্ষোভ জন্মায় চাকরিপ্রার্থীদের। সেই মামলাটি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে ওঠে শুনানির জন্য। এমনকি মামলাকারী সুদীপ্ত চক্রবর্তী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা মানেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার।
আরও পড়ুন: রাজ্যে ফের ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ, কী কারণে এত নজরদারি?
সমস্ত দিক বিবেচনা করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তালিকা প্রকাশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা। এমনকি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ফের এই মামলার শুনানি হবে। পাবলিক নোটিশে হাইকোর্টের বিচারাধীন মামলার ভবিষ্যতের উপরেই নিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বলে আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। এমনকি আজ আরও একটি মামলায় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৎকালীন সরকারের আমলে উচ্চ প্রাথমিকে ১৫০০ অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই সমস্ত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।










