সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরজি কর মামলায় (RG Kar Case) নয়া মোড়। হাইকোর্টের চোখরাঙানি খেয়ে সোজা হাসপাতালে সিবিআই-র বিশেষ টিম। চলছে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তে গতি আনতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এবার গোয়েন্দা সংস্থা হাসপাতালের অধ্যক্ষর ঘরে ঢুকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে খবর সূত্রের। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এফআইআর দায়ের হওয়ায় গ্রেফতার হয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ সহ সিপিএম কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।
আরজি কর হাসপাতালে সিবিআই-র বিশেষ টিম
এদিন তদন্তকারী অফিসারদের টিমে ছিলেন ৩ জন সিনিয়র আধিকারিক, যাদের মধ্যে একজন মহিলা অফিসার। তদন্তের স্বার্থে এবার বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেই খবর। এমনকি আধিকারিকরা অধ্যক্ষের ঘরে প্রবেশ করে কথাবার্তা শুরু করেন বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট ৯ জনকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন নার্স। এমনকি ২ জনকে কোচবিহার থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, যারা দীর্ঘ ২ বছর আগে আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে সহযোগিতা করার অনুরোধ করে দ্রুত হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাদেরকে।
আসলে সিবিআই-র তদন্তের গতি দিনের পর দিন কমছে এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই সূত্রে আগের শুনানিতে জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। এমনকি হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, ২০২৫-র ৭ অক্টোবর ২৪ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়ার পর থেকে বিগত ১ বছর ৭ মাস ধরে কতটা তদন্ত করেছে সিবিআই! পাশাপাশি বিচারপতির নির্দেশ ছিল, ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতার সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ঠিক কী কী ঘটেছিল তার পূর্ণ তদন্ত দরকার।
আরও পড়ুন: তৃণমূল আমলে ১২,০০০ কনস্টেবল নিয়োগে দুর্নীতি, মেধাতালিকায় স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের
পাশাপাশি আদালত এও প্রশ্ন তোলে, নির্যাতিতার পরিবারের দাবিকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তবে সিবিআই জানিয়েছিল, তদন্তের গতি থমকে নেই। ইতিমধ্যেই ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তির বয়ান গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার পর ফের সিবিআই তদন্তের গতি বাড়িয়েছে এবং হাসপাতালের ভেতরে গিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।










