আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাংলা আর শিল্প মহলে আরও একটি নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলার বস্ত্রশিল্পের (Textile Industry) উন্নতিতে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ পদক্ষেপ। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন করে শিল্পের প্রসারের সম্ভাবনা তৈরি হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের কাজের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতির পরিকল্পনাও রয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ (Raniganj) কয়লাখনি এলাকাকে এবার তুঁতগাছের চাষের মাধ্যমে রেশম উৎপাদনের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কী করতে চলেছে সরকার?
এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সয়েল-টু-সিল্ক’ (Soil-to-Silk) উদ্যোগ। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং এই প্রকল্পের কথা সামনে এনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উত্তোলনের কারণে রানিগঞ্জের বেশ কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্ত ও অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। সেই জমিগুলিকে আবার উৎপাদনশীল করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে রেশম চাষের প্রসার ঘটিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে চায় কেন্দ্র।
এই উদ্যোগকে ঘিরে নেওয়া পরিকল্পনাসমূহ
- তুঁতগাছের চাষ: অব্যবহৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত কয়লাখনির জমিতে তুঁতগাছ লাগানো হবে। এই গাছের পাতা রেশমকীটের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- রেশম উৎপাদন বৃদ্ধি: পশ্চিমবঙ্গের বার্ষিক রেশম উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৫০০০ মেট্রিক টনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
- রানিগঞ্জের উন্নয়ন: প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো কয়লাখনি অঞ্চলকে পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও রেশম চাষের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে।
- জামুড়িয়ায় বস্ত্রশিল্পের প্রসার: জামুড়িয়াকে একটি বস্ত্রশিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে। শ্রী মা টেক্সটাইলস পরিদর্শনের পর এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন গিরিরাজ সিং।
- কেন্দ্রীয় সহায়তা: কেন্দ্রীয় সিল্ক বোর্ড ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর পরিকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এই কাজে সহযোগিতা করবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একাধিক ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকা জমি আবার চাষের কাজে লাগানো যাবে। দ্বিতীয়ত, রেশম উৎপাদন বাড়লে বাংলার বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পাট ও রেশমের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পেরও প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে। শিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হলে উৎপাদন ও পরিকাঠামোর উন্নতিও ঘটবে।
আরও পড়ুন: এক রিচার্জে চলবে তিন বছর, বড় প্ল্যান লঞ্চ করল Jio
সব মিলিয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকার নতুন পথ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তুঁতচাষ ও রেশম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হলে এলাকার বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বাংলার বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছোট ব্যবসায়ী, চাষি ও শিল্পক্ষেত্রের কর্মীরাও উপকৃত হতে পারেন। এখন এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয় সেই দিকেই নজর এলাকাবাসীর।










