সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার (Government of West Bengal)। একথা নিজেই জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। মঙ্গলবার জাতীয় গ্রন্থাগারে দলের শিক্ষক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তিনি। আর সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিধানসভায় বিল পাশ করতে হবে এবং এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘোষণা সামনে আসতেই যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাজ্যের শিক্ষকদের সরকারি কর্মীর মর্যাদা
জানিয়ে রাখি, রাজ্যে মোট তিন ধরনের সরকারি স্কুল রয়েছে। যথা- সরকারি, সরকার পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত। সেক্ষেত্রে হিন্দু, হেয়ার, সংস্কৃত বা বেথুন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাররা শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা পান। এমনকি তারা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এতদিন শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ভরসা ছিল। পাশাপাশি সরকারি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা চাকরি জীবনে তিনটি ইনক্রিমেন্টের সুবিধা পান, এবং পরবর্তী সময়ে চড়া হারে বেতন পান। কিন্তু সরকার পোষিত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষকরা এই সুযোগ পান না।
এ বিষয়ে রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে ফিট করানো যায় কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপি রয়েছে, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরকারি কর্মচারীর আওতায় পড়েন।
আরও পড়ুন: হবে সব শ্রেণির শিক্ষকের বদলি, প্রায় চার বছর পর চালু হল উৎসশ্রী পোর্টাল
উল্লেখ্য, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, বদলি নিয়ে অসংখ্য শিক্ষক এবং তার সঙ্গে ব্যক্তিগত মেসেজ বা ইমেল যোগাযোগ আসে। কোনও সমস্যা থাকলে সেলের মাধ্যমে আসতে হবে। চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচুর আইনি জলঘোলা রয়েছে। সেগুলি কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী। তবে এরই মধ্যে যদি স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরকারি কর্মচারীর আওতায় পড়েন, তাহলে যে তারা উপকৃত হবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।










