বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয় দেখতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে (Supreme Court Of India)। এদিকে বঙ্গে SIR এর পর প্রায় 35 লাখ ভোটারের আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে ট্রাইব্যুনালে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে? পড়লে তা কতটা? সুপ্রিম কোর্টে এমন প্রশ্ন উঠতেই, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতকে জানান, তৃণমূলের হারের ব্যবধান 32 লাখ। এদিকে 35 লাখের নাম এখনও বিচারাধীন। মূলত সে কারণেই দ্রুত ইলেকশন পিটিশন ফাইল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চের কাছে আবেদন জানান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনে সাড়া দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এর জন্য ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আবেদনে সায় সুপ্রিম কোর্টের!
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানি চলাকালীন, তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাংলার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পেয়েছে 2 কোটি 60 লাখ 13 হাজার 84টি। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি ভোট পেয়েছে 2 কোটি 92 লাখ 24 হাজার 804টি। অর্থাৎ তৃণমূল বিজেপির থেকে 32 লাখ ভোট কম পেয়েছে। এদিকে এখনও 35 লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন। আসনের হিসেব করলে তৃণমূল পেয়েছে 80টি আসন। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির দখলে গিয়েছে 207 আসন।
এদিন দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, “বাংলায় 31টি এমন আসন রয়েছে যেখানে যত জনের নাম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তার থেকে কম ব্যবধানে ভোটের ফল হয়েছে।” এদিন একেবারে উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, 862টি ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হেরেছেন। এদিকে সেই অঞ্চলে নাম বাদ পড়েছে 5 হাজার মানুষের।
অবশ্যই পড়ুন: প্রকল্প চালু থাকলেও এরা পাবেন না স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তৃণমূল পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন বক্তব্য শুনে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু জানান, সে ক্ষেত্রে তারা ইলেকশন পিটিশন ফাইল করতে পারেন। ঠিক তখনই দেশের শীর্ষ আদালতকে আবেদনের সুরে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহামান্য আদালত আমাদের গ্রাউন্ডে ইলেকশন পিটিশন ফাইল করার অনুমতি দিন।” এরপরই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এক্ষেত্রে আপনারা আলাদা করে IA বা ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন ফাইল করতেই পারেন। কমিশনের তরফের আইনজীবী যা বলতে হয় বলবেন। আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে তবেই নির্দেশ দেব।” এক কথায় বলাই যায়, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সহ বাকিদেরও নিজেদের অভিযোগ প্রমাণের সুযোগ দিল আদালত।










