বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সময় যত গড়াচ্ছে আধুনিকতার মোড়কে উন্নত হচ্ছে রেল ব্যবস্থা (Indian Railways)। বিগত দিনগুলিতে বারবার ভারতীয় রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রায় সব প্রান্তকে রেল ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করাই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য! সোমবার, এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানালেন, একটা সময় আসবে যখন ট্রেন ব্যবস্থা বিমান পরিষেবাকেও ছাপিয়ে যাবে! এদিন, ভারতীয় রেলের একাধিক প্রকল্প নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি পরবর্তী লক্ষ্য সম্পর্কেও দেশবাসীকে অভিহিত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
ঠিক কী জানালেন রেলমন্ত্রী?
আজ অর্থাৎ সোমবার, এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বললেন, ভারতীয় রেল ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে 2025-26 আর্থিক বছরের জন্য তার বাজেট 98 শতাংশ ব্যয় করে ফেলেছে। এর অর্থ ভারতীয় রেল তার নির্ধারিত সমস্ত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করছে। এদিন রেলমন্ত্রী এও বলে দিলেন, ভবিষ্যতে দেশের বহু নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
এদিন রেলমন্ত্রী একেবারে স্পষ্ট করে জানান, “এখনও পর্যন্ত 49,000 কিলোমিটার রেললাইনে বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। যা জার্মানির গোটা রেল নেটওয়ার্ক এর থেকে বেশি। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে 36,000 কিলোমিটার পর্যন্ত নতুন ট্র্যাক যুক্ত করা হয়েছে রেল ব্যবস্থায়। যা সুইজারল্যান্ডের রেল নেটওয়ার্কের তুলনায় প্রায় 6 গুণ। এই নতুন রেল রুটগুলি তৈরি হওয়ার ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তাতে আগামীতে মানুষ ট্রেনকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেবে।”
ভারতীয় রেলের সাফল্য নিয়ে কথা বলতে বলতেই রেলমন্ত্রী জানালেন, “সরকার মুম্বই ও পুনের মধ্যে একটি নতুন রেল করিডোর তৈরি করছে। এর ফলে ভ্রমণের সময় 28 মিনিট কমে যাবে। পুনে থেকে হায়দরাবাদ পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে 1 ঘন্টা 55 মিনিট এবং হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে প্রায় দু’ঘণ্টা।” এদিন রেলমন্ত্রী একেবারে জোর দিয়ে বললেন, “এই ধরনের রুটগুলিতে ট্রেনের পরিষেবা বিমানকেও টেক্কা দেবে! এইসব রুটে মানুষ ফ্লাইট ছেড়ে ট্রেনের প্রতি মনোযোগী হবে। এই সব সেক্টর বিমান সংস্থাগুলির জন্য চাপের!”
অবশ্যই পড়ুন: মমতাকে হারিয়ে ক্ষমতায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বাংলাদেশে
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সংযোজন, “যাঁরা এখনও বিভিন্ন এভিয়েশন সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করতে চাইছেন, তাঁদের বোঝা উচিত যে এই রুট গুলিতে ট্রাফিকের 99 শতাংশ রেলপথ থেকে আসবে। বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে ভ্রমণের সময় 78 মিনিট কমে যাবে। এছাড়াও দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছনো যাবে মাত্র 3 ঘন্টা 50 মিনিটের মধ্যেই। অন্যদিকে লখনউ ও দিল্লির মধ্যে যাতায়াত করতে সময় লাগবে মাত্র দু ঘন্টা।”










