প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের (Bidhan Chandra Roy) জন্মদিবসেই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের (Bidhannagar Sub-Divisional Hospital) নাম বদল করে রাখা হল ডা.বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল। পাশাপাশি চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে একগুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন তিনি। এছাড়াও মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য চালু করলেন ‘জননী’ পোর্টাল।
বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নাম বদল
রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, ১ জুলাই, চিকিৎসক দিবস এবং বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে বিধাননগরে একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে আয়োজিত চিকিৎসক দিবসের এই অনুষ্ঠানে শুরুতেই ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের বিশালাকার মূর্তিতে মাল্যদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এরপরই বিধাননগর সাব ডিভিশনাল হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের কিংবদন্তি চিকিৎসক এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানিয়ে নাম রাখলেন ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’।
কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?
সূত্রের খবর, মঞ্চে এদিন উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিক, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান , “২০ বছর আগে থেকেই বিধানচন্দ্র রায় সম্পর্কে জানছি, তাঁকে নিয়ে পড়াশোনা করেছি। রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একসময় বলেছিলেন, ‘যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই দেখছি বিধানচন্দ্র রায় কাজ শুরু করেছিলেন।’ আর আমি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি।” এছাড়াও, পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্যের হাসপাতালে এই বেহাল দশা, এটা কি কাম্য ছিল? দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের বদলে রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।”
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে হোমস্টেতে রুম বৃদ্ধি থেকে নতুন ‘বন্ধু’ অ্যাপ, পাহাড় প্রেমীদের জন্য দারুণ খবর
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মেধা এবং দক্ষতা দেশের যে কোনও প্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম। কিন্তু পূর্বতন সরকার সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগায়নি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই আমরা-ওরার রাজনীতি প্রয়োজন ছিল না। তবে আগামী দিনে এই হাসপাতালকে আরও উন্নত পরিষেবা ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।” এদিন তিনি বিধাননগর থেকে গোটা রাজ্যজুড়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে কার্যত নতুন জোয়ারের ঢেউ তুলে দিলেন। নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের জন্য রাজ্য সরকারের ‘জননী’ পোর্টালের উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অভাব-অভিযোগ জানাতে চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।










