প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবশেষে ভারতের ১৬তম জনগণনা (Census 2027) কর্মসূচি শুরু হল আজ থেকে। আর এবারই দেশে প্রথমবার এই জনগণনা হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। তাই, আজ, সেচ দফতরে স্ব গণনা প্রক্রিয়ায় সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, এই তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত থাকবে। শুধুমাত্র পরিসংখ্যা, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। অতএব কারও ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে আসার কোনও সুযোগ নেই।
কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
উদ্বোধন পর্বে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান যে, “এ বার জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় জনগণনা হবে। স্বগণনাও করতে পারবেন বাংলার মানুষ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজে সেটা আজ করলাম। জনগণনার কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের সহযোগিতা করার আবেদন করছি।” এছাড়াও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি জানান যে, “আপনারা স্বগণনার সুবিধা নিন। আপনাদের তথ্য শুধুমাত্র সরকারি পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের স্বার্থেই ব্যবহৃত হবে। অপব্যবহার করার সুযোগ নেই। আমাদের সরকারের একমাত্র স্লোগান হল, জনগণের জনকল্যাণ।’”
চলবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া
জনগণনার জন্য se.census.gov.in এই ওয়েবসাইটে করতে হবে ফর্ম ফিলাপ। মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নাগরিককে। এই প্রথম জনগণনায় জাতিভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িতে বাড়িতে চলবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ইতিমধ্যেই জনগণনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। একাধিক দেশের সীমান্ত থাকার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে স্ব-গণনা করবেন?
প্রথমে জনগণনার অফিসিয়াল পোর্টাল se.census.gov.in/-এ যান। সেখানে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে OTP-র মাধ্যমে লগ ইন করে নিতে হবে। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ একটি পরিবারের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করতে হবে। নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বেছে নিতে হবে। এবার পরিবারের প্রধান এবং তাঁর মোবাইল নম্বর দিতে হবে। তারপর ক্যাপচা দিয়ে Get OTP-তে ক্লিক করতে হবে। এবার যে পেজ খুলে যাবে, তাতে ভাষা নির্বাচন করে নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি লিখতে হবে, তারপর Verify OTP তে ক্লিক করতে হবে। আরও একটি পেজ খুললে সেখানে জেলা নির্বাচন করে দিতে হবে পিন কোড। ল্যান্ডমার্ক বা আপনার এলাকার উল্লেখযোগ্য স্থান দিতে হবে।
আরও পড়ুন: বাসে ফ্রি ভ্রমণে মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক পিঙ্ক কার্ড, কীভাবে বানাবেন দেখে নিন
এরপর আবার একটি নতুন পেজ খুলবে সেখানে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সমস্ত তথ্য পূরণ করার পরে যাচাই করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। জমা দেওয়ার পর আপনি একটি SE ID পাবেন, সেটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে গণনাকারী পরিদর্শনের সময় এই SE ID টা দিতে হবে। এরপর গণনাকারী পোর্টালে আপলোড হওয়া আপনার সব তথ্য যাচাই করবেন। আগামী ১৬ অগস্ট থেকে বাড়ি-বাড়ি যাবেন গণনাকারী। আর যাঁরা অনলাইনে তথ্য জমা দেননি, তাঁদের তথ্যও সংগ্রহ করবেন গণনাকারীরা।










