শহর থেকে পাঠানো হবে গ্রামের স্কুলে? শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ভাবছে রাজ্য সরকার

Published:

Teacher Transfer

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যে হয়েছে পালাবদল। এবার বোধহয় দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলে শিক্ষকদের বদলির (Teacher Transfer) নিয়ম চালু হবে। এমন আশাতেই দিন গুনছেন বহু শিক্ষাকর্মী। 2022 সাল থেকেই শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত জনপ্রিয় পোর্টাল উৎসশ্রী একেবারে বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেই অভিযোগ। এর ফলে শিক্ষকদের বদলি সম্ভব হচ্ছে না। মূলত সে কারণেই এবার ফের নতুন করে অনলাইন মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানালেন শিক্ষকরা।

গ্রাম থেকে শহরে আসা শিক্ষকদের ফেরানো হবে?

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বিগত দিনগুলিতে। সেটা দেখেই এবার বিভিন্ন সরকার এবং সরকার পোষিত স্কুলের একটা বড় অংশের শিক্ষকরাই মনোবল পেয়েছেন। আর সেই সূত্র ধরেই এবার নতুন করে অনলাইনে শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন রেখেছেন তাঁরা। শিক্ষকদের বক্তব্য, শহরের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠে না সরকারি স্কুলগুলি।

সম্প্রতি বঙ্গীয় শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মী সমিতি নামক সংগঠনের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে, কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা যদি শহর থেকে গ্রামে বদলি হয়ে যাওয়ার আবেদন জানান, তবে বিনা শর্তে তাঁকে বা তাঁদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। যদিও শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত নানান বিষয়ের মধ্যে শহর থেকে গ্রামে বদলি হয়ে ফিরে যাওয়ার মতো বিষয়ে আবেদন অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন শিক্ষা দপ্তরের একাংশ।

এ প্রসঙ্গে সরকারের কাছে বড় আবেদন রেখেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল। তাঁর দাবি, অতি দ্রুতার সাথে শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আবার অনলাইনে শুরু করতে হবে। প্রত্যেকে যাতে সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমেই নিজেদের বদলির আবেদন জানাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। স্বপন বাবু জানান, গ্রামের দিকে সরকার বা সরকার পোষিত স্কুলের চাহিদা অনেক বেশি। তাই কেউ যদি শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানায় তবে নিঃশর্তে সেই আবেদন মঞ্জুর করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন: ভেরিফিকেশনে এই ভুলগুলি ধরা পড়লেই মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা

প্রসঙ্গত, পূর্বতন সরকারের আমলে একগুচ্ছ বেনিয়মের অভিযোগ ছিল। বর্তমান স্কুল শিক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনলাইনে পোর্টালের মাধ্যমে বহু শিক্ষক, শিক্ষিকা আবেদন জানিয়ে গ্রাম থেকে শহরে চলে এসেছেন। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিতে 2016 সালের শিক্ষকদের প্যানেল বাতিল হওয়ার পরই শিক্ষক, শিক্ষিকার ঘাটতি দেখা দেয়।

এই মুহূর্তে শহর কলকাতায় বহু স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষক এবং ছাত্রের পার্থক্য অনেকটাই। কোথাও, আড়াই তিন হাজার ছাত্র এবং শিক্ষক, শিক্ষিকা মাত্র 30 জন। ঠিক অপরদিকে তুলনামূলকভাবে গ্রামে শিক্ষকদের চাহিদা অনেকটাই বেশি থাকে। কারণ গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলিতে হাজার হাজার পড়ুয়াদের তুলনায় শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা একেবারে নগণ্য। তাই নতুন করে পোর্টাল চালু করিয়ে শহর কলকাতা থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের গ্রামে পাঠানো যায় কিনা সবটাই বিবেচনা করে দেখছে শিক্ষা দপ্তর।