থাকবে কড়া শাস্তির বিধান, তোলাবাজি রুখতে বিশেষ আইন আছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

Published:

Government of West Bengal

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তোলাবাজি রুখতে ইতিমধ্যেই হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে নবান্ন। তবে তা সত্ত্বেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অবাধে টাকা তোলার অভিযোগে বিগত বেশ কয়েক মাসে হয়েছে একাধিক গ্রেফতারির ঘটনা। কিন্তু তাতেও লাগাম না টানতে পারায় এবার তোলাবাজি ও বেআইনি চাঁদা আদায় রুখতে বিশেষ আইন আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। যার আওতায় তোলাবাজিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, এবং এই অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তোলাবাজি রুখতে কঠোর আইন আনছে সরকার

রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে এবার তোলাবাজির ঘটনা সামনে আসলেই থানায় অভিযোগ জানানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ আইনের ধারায় পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি সেই আইন কার্যকর করার কাঠামো তৈরি করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। পাশাপাশি সেই আইনের কোন কোন ধারায় অপরাধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং কী ধরনের শাস্তির বিধান থাকবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তোলাবাজি আর বেআইনি চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি এবার আইনি রক্ষাকবচ আরও শক্ত করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

জানিয়ে রাখি, নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে জানিয়েছিল, সরকার গঠন করেই তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেটরাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে। এমনকি সেই সূত্রে নবান্নের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। সরাসরি সেখানে তোলাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো যাচ্ছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে সেই ব্যবস্থা আরও কঠোর করতেই পৃথক আইন আনার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

আরও পড়ুন: বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই রেশন কার্ড, এখনই এভাবে চেক করুন স্ট্যাটাস

এদিকে গত ২৯ জুন বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে গুন্ডা দমন আইন পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে দু’দুটি বিল পেশ করা হয় সেদিন। এই আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তকে সন্দেহ মনে হলে ঘটনা ঘটার আগেই সরাসরি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ এবং জেল হেফাজতে পর্যন্ত পাঠানোর অধিকার রাখবে। তার পাশাপাশি কোনও সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ক্ষেত্রে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা ক্ষতিপূরণ নেবে সরকার। তবে তোলাবাজি সংক্রান্ত অপকর্ম রাজ্য থেকে সম্পূর্ণ বিনাশ করতেই এবার পৃথক আইন আনা হচ্ছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।