আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সংসারে অভাব ছিল বরাবরই। অভাব সহ্য করে নেওয়া গেলেও, অত্যাচার কি সহ্য করা যায়? অভাবের সঙ্গেই তাল মিলিয়েই চলছিল মদ্যপ স্বামীর অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির সঙ্গে আর লড়াই করতে না পেরে তিন সন্তান, স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন মা। তাঁর তিন সন্তানই এখনও দুধের শিশু। তাদের মধ্যে একজন শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই অসুস্থ। সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না, চলাফেরা করতে পারে না, এমনকী কথা বলার ক্ষমতাও তার নেই। নীরবে শুধু আশপাশের মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। মায়ের স্নেহের স্পর্শ পাওয়ার বয়সে ঠাকুরদা-ঠাকুমার কাছেই কোনওরকমে দিন কাটছে তিন শিশুর (Sad Story)।
নাতি-নাতনিদের দায়িত্ব বৃদ্ধ দম্পতির কাঁধে
তিন সন্তানকে রেখে চলে যাওয়া ওই মায়ের এমন কঠিন সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অসহায় পরিস্থিতি। পরিবারের অভিযোগ, বাবা উপার্জনের টাকা সংসারের প্রয়োজন মেটানোর বদলে মদের পিছনেই খরচ করে ফেলেন। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর বর্তমানে তিন শিশুর দেখভালের পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছে বৃদ্ধ ঠাকুরদা-ঠাকুমার উপর। কিন্তু বয়সের ভারে তাঁরাও আর আগের মতো সক্ষম নন। স্ট্রোক হওয়ার পর ঠাকুরদার কাজ করার ক্ষমতাও অনেকটাই কমে গিয়েছে। তবুও নাতি-নাতনিদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করে চলেছেন তাঁরা।
অভাবের মধ্যেও শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে লোকের বাড়িতে কাজ করছেন ঠাকুমা। সেই সামান্য রোজগারেই কোনওরকমে টিকে রয়েছে এই সংসার। অন্যদিকে, অভিযোগ, ছেলে মদ খেয়ে এসে বাবা-মায়ের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। কিছু বললেই তাঁদের গায়ে হাত তোলেন এবং গালিগালাজ করেন। একদিকে তিনটি ফুটফুটে নাতি-নাতনির দায়িত্ব, অন্যদিকে ছেলের এমন আচরণ, সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে বৃদ্ধ দম্পতির।
আরও পড়ুন: ফুলের ‘স্বর্গ’, ঘুরে আসুন UNESCO ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পাওয়া ‘কাস পাথর’
এভাবে আর কতদিন তিন শিশুকে আগলে রাখতে পারবেন, সেই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে তাঁদের চিন্তা আরও বেশি। নিজেদের সামর্থ্য সীমিত হলেও নাতি-নাতনিদের ফেলে দিতে চান না তাঁরা। তাই শেষ পর্যন্ত সাহায্যের আশায় সোশ্যাল ওয়ার্কার অতীন্দ্রের ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁদের একটাই আবেদন, অন্তত বাচ্চাগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে মানুষ যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা।










