প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বণ (Bengali Festival), আর সেই পার্বণের মধ্যে অন্যতম হল রান্না পুজো (Ranna Puja) বা রন্ধন উৎসব। বছরে দু’বার অরন্ধন উৎসব পালিত হয়। একবার মাঘ মাসে সরস্বতী পুজোর পরের দিন শীতলষষ্ঠীতে। আরেকটি, ভাদ্র সংক্রান্তিতে মনসা পুজোর দিন। এই রান্নাপুজোর মূল আকর্ষণ হল ভাদ্র মাসে রেঁধে আশ্বিনে খাওয়া। কিন্তু অনেকেরই প্রশ্ন থাকে কেন বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishvakarma Puja) দিন ঘরে ঘরে পালিত হয় ‘রান্না পুজো’? চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কেন পালিত হয় রান্নাপুজো?
‘রান্নাপুজো’ আসলে বঙ্গীয় সংস্কৃতির একটি অংশ। মূলত গ্রামবাংলা থেকে এই উৎসবের প্রচলন হয়ে আসছে। এই রান্নাপুজোকে আবার অরন্ধন পুজোও বলা হয়ে থাকে। শাস্ত্র মতে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এই উৎসব পালিত হয় সারা বাংলা জুড়ে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। আসলে শাস্ত্র মতে, বিশ্বকর্মা হলেন কৃষির দেবতা। সমস্ত পুজো তিথি মেনে হলেও একমাত্র এই বিশ্বকর্মা পুজোই সূর্যের স্থান পরিবর্তন অনুযায়ী হয়। ভাদ্র-সংক্রান্তির দিন সূর্য সিংহ লগ্ন থেকে কন্যা লগ্নে প্রবেশ করে, যার সঙ্গে শস্যচাষ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আর সেই উপলক্ষেই শস্য উৎসব উদযাপন হয় এই রান্নাপুজোর মধ্য দিয়েই।
আরাধনা করা হয় মা মনসারও
মূলত বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে হেঁসেলে আগুন জ্বালানো নিষেধ থাকে বলেই আগের দিনেই বিশাল ভোজের প্রস্তুত করা হয়। তবে এই আয়োজনে আবার দেবী মনসার আরাধনাও করা হয়। আসলে যে উনুন বা আঁচে সংসারের খাবার তৈরি হয়, তাকেই দেবী মনসার প্রতীক মেনে পুজো করা হয়। এছাড়াও আরও একটি কারণে আরাধনা করা হয়। বলা হয় ভাদ্রের শেষে বর্ষার দাপট কমার মুখে সাপের উপদ্রব বাড়ে, তাই পরিবারকে বিষধর সাপের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে এবং দেবীর কৃপা পেতে উনুনকে শান্ত রাখার জন্য এই রীতি পালন করা হয়।
আরও পড়ুন: জানেন কেন ট্রেনের ছাদে ঢাকনার মত অংশ থাকে?
দক্ষিণবঙ্গ সহ বিভিন্ন গ্রামের ঘরে ঘরে মাটির উনুন ভালো করে গোবর ও জল দিয়ে লেপে পরিষ্কার করা হয়। এরপর চালের পিটুলি দিয়ে আঁকা হয় আলপনা। উনুনের ওপর বসানো হয় দেবী মনসাকে, ঘরজুড়ে তখন এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরনো দিনের এই রীতি এখনও মানা হয় দক্ষিণবঙ্গের বহু পরিবারে। গৃহস্থের মহিলারা আগের দিন সূর্যের আলো ফোটার আগেই একের পর এক রান্না করে ফেলে। ইলিশের নানা পদের পাশাপাশি এই দিন কচুর শাক, ছোলার ডাল, চালতার টক, নানা রকমের ভাজা, সেগুলি পরের দিন অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকলে মিলে খায়।










