উপনির্বাচনের আগেই ঝটকা খেল ঋতব্রত শিবির! ১০ বিধায়ককে নোটিশ স্পিকারের

Published:

ritabrata banerjee tmc 1

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: উপনির্বাচনের আগে নতুন সমস্যায় জর্জরিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির (Ritabrata Trinamool)। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা এবং একাধিক বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে ওই শিবিরের বিরুদ্ধে। তাই ১০ জন বিধায়ককে নোটিস পাঠিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। সাত দিনের মধ্যে তাদেরকে লিখিতভাবে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতাতেই এই নোটিস দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে ওই বিধায়কদের সদস্যপদ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতিতে চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তৃণমূলের অভিযোগের পরেই এমন পদক্ষেপ?

জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কালীঘাট শিবিরের হাত রয়েছে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই স্পিকারের দফতর থেকে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। দলীয় নির্দেশ অমান্য করা এবং দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী কেন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে না, নোটিসে তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে খবর। প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সোমবার এই বিষয়ে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করেন। তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

উপনির্বাচনের আগে আরও বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ

এই পরিস্থিতির মধ্যেই কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে, আগামীকাল উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন ঋতব্রত শিবিরের দুই প্রার্থী। সোমবার হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সর্বসমক্ষে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল বিদ্রোহী শিবির। নন্দীগ্রাম থেকে এতেসামুল হক এবং রেজিনগর থেকে সফিউজ্জামান শেখকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দলীয় প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা এবং তার পরেই ১০ বিধায়ককে স্পিকারের নোটিস, দুই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রথম কন্যা সন্তানে ১ লক্ষ, দ্বিতীয়তে মিলবে ২ লক্ষ! টাকা দিচ্ছে মোদী সরকার?

স্পিকারের নোটিসের পর এখন সাত দিনের মধ্যে ওই ১০ বিধায়ক কী জবাব দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যের। তাঁদের বক্তব্য খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, স্পষ্ট ভাবে জানা যাবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সদস্যপদ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আরও কাটাছেঁড়া হতে পারে, আরও দীর্ঘ আইনি পর্যায়ে গড়াতে পারে। নোটিস পাওয়ার পর ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন কিনা, সেই বিষয়টিও এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের ঠিক আগে স্পিকারের এই পদক্ষেপে বাংলার রাজনীতিকে রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে।