প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, ভক্তি আর উৎসবের আবহ। আর তাই এই উৎসবের আনন্দ থেকে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয় সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের পর্যটন দপ্তর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়িতে (Siliguri) বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কথা মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গ ডিসএবল রিহ্যাবিলিটেশন সোসাইটি নিয়ে এসেছে ‘উত্তরণ’ (Uttaran) নামক এক বিশেষ ‘পুজো পরিক্রমা’। এর মাধ্যমে শিশুরা শিলিগুড়ির একাধিক নামী দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ আজ বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে তিনি জানান, “ শিলিগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে উত্তরবঙ্গ ডিসএবল রিহ্যাবিলিটেশন সোসাইটি ‘উত্তরণ’-এর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে এক বিশেষ ‘পূজো পরিক্রমা’। এই উদ্যোগের অধীনে ১৬৮ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু, তাদের ১০০ জন অভিভাবক এবং ৩২ জন শিক্ষকের সাথে শিলিগুড়ির ১২টি প্রধান পূজা প্যান্ডেল পরিদর্শন করবে। সকল অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ৭টি বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
রয়েছে জলখাবারের ব্যবস্থা
জানা গিয়েছে, আজ সকাল ১০টা থেকেই শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বিশেষ উদ্যোগে এবং পর্যটন দপ্তরের পরিচালনায় আয়োজিত ‘উত্তরণ’-এর বিশেষ পুজো পরিক্রমা। শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে এই পরিক্রমার সূচনা করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তরবঙ্গের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে উৎসবের আনন্দ ও সমতার অনুভূতি ছড়িয়ে দেওয়া। এছাড়াও দুর্গাপুজোর এই মহোৎসবে সকলের সার্বিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে উপস্থিত সমস্ত শিশু, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সকালের খাবার, দুপুরের খাবার এবং প্রয়োজনীয় জলখাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর! GPF-এ সুদের হার ঘোষণা করল নবান্ন
অন্যদিকে গতকাল, চতুর্থীর দিন আসানসোলের অন্ডালে কয়েকজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের নিয়ে দুর্গা পুজোর প্যান্ডেল উদ্বোধন করেছিলেন বিধায়ক পার্থ ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে দড়ি কেটেছিলেন বিধায়ক। তাঁর মতে, “দুর্গাপুজো শুধু যে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে তা নয়, এই উৎসব মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে, সামাজিক বন্ধনকে মজবুত করে তোলে।” ওই দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বাচ্চাদের চকলেট দেওয়ার পাশাপাশি গরিবদের জন্য বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।










