বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান, আমেরিকার সংঘাত বড় আকার নেওয়ায় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার কারণে বন্ধ হয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে বাংলার মৎস্য ব্যবসায়ীদের পকেটে। এই আন্তর্জাতিক জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্নের মুখে মাছ আমদানি এবং রপ্তানি। তাতে কম করে 100 কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ব্যবসায়ীদের! কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? কবে আবার আগের মতো মাছের ব্যবসায় লাভের মুখ দেখতে পাবেন বাংলার মৎস্য চাষীরা? সেই উত্তর আপাতত নেই।
আরও জটিল হতে পারে পরিস্থিতি
ইরান এবং আমেরিকার মধ্যেকার সংঘাত 50 দিন ছাড়িয়েছে। আজও শান্তির পথে আসতে পারেনি এই দুই দেশ। মাঝে পাকিস্তানে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যেকার সংঘাত থামাতে হয়েছিল বৈঠক। তবে শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ জানিয়েছে, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া সত্ত্বেও তারা অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। যার কারণে ফের বন্ধ করা হয়েছে এই প্রণালী।
ইরান বলেছে, যতদিন না পর্যন্ত আমেরিকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের সমস্ত জাহাজের অবাধে যাতায়াতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ততদিন হরমুজ বন্ধই থাকবে। এর জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বাংলার মৎস্য চাষীদের। একদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রুই, কাতলা, চিংড়ি, পাবদা, চিতল, বোয়াল, এমনকি ট্যাংড়ার মতো মাছ যায় আমেরিকা এবং ব্রিটেনে। সেই রপ্তানি এই মুহূর্তে বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে। একইভাবে ওমান, কাতার, ভিয়েতনাম হয়ে প্রচুর পমফ্রেট, চাঁদা, খয়রা, পাঙ্গাসের মতো মাছ আসে ভারতে। বর্তমানে সেই আমদানিও ব্যাহত হয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: ২ জেলায় তাপপ্রবাহ, ৩ জায়গায় তেড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আজকের আবহাওয়া
এ প্রসঙ্গে ফিস ইমপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ইরানের যুদ্ধের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকে এক্সপোর্টার এবং ইমপোর্টাররা মাছের একের পর এক অর্ডার বাতিল করেছে। শুধু তাই নয়, বাংলার অন্তত 70 জন মাছ রপ্তানিকারক এবং মুম্বই, গুজরাতের মতো রাজ্যের শতাধিক রপ্তানিকারক নিজেদের ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। সবমিলিয়ে হরমুজ বন্ধ হওয়ার কারণে লাটে উঠেছে মৎস্য ব্যবসা। ফলে এখন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে সকলকে। সেটাও যদি ভেস্তে যায় সে ক্ষেত্রে বাংলার মৎস্য চাষীদের একটা বড় অংশের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে দাঁড়াবে। কেউ কেউ তো আবার বলছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে খয়রা, পাঙ্গাস, পমফ্রেটের মতো মাছগুলি বাঙালির পাতে ওঠা বন্ধই হয়ে যাবে।










