রামলীলা মঞ্চের জন্য ২ বিঘা পৈতৃক জমি দান করলেন মুসলিম দর্জি! অবাক করা ঘটনা যোগীরাজ্যে

Published:

Uttar Pradesh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যেখানে দেশ তথা গোটা বিশ্বে ধর্ম নিয়ে অসন্তোষ লেগেই রয়েছে, সেখানে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) ভাদোহি জেলার এক গ্রামে ঘটল অনন্য ঘটনা। হ্যাঁ, গোপীগঞ্জ এলাকার বড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছরের আব্দুল রহিম সিদ্দিকী তাঁর পৈতৃক জমির একটি অংশ গ্রামে রামলীলার স্থায়ী মঞ্চ গড়ে তোলার জন্য দান করলেন। সূত্রের খবর, পেশায় দর্জি আব্দুল রহিম শুক্রবার আদর্শ রামলীলা কমিটির হাতে প্রায় দুই বিঘা জমি তুলে দিয়েছেন। আর সেটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামে রামলীলার আয়োজন হলেও নিজস্ব কোনও জায়গার অভাবে নানা রকম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল উদ্যোক্তাদের। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছেন তিনি।

৯৪ বছর পর রামলীলার স্থায়ী ঠিকানা

এ বিষয়ে প্রাক্তন গ্রামপ্রধান রাধেশ্যাম মিশ্র জানিয়েছেন, গত ৯৪ বছর ধরে বড়াগাঁও গ্রামে নিয়মিত রামলীলা আয়োজন করা হয়ে আসছে। তবে এতদিন পর্যন্ত এই রামলীলার জন্য কোনও স্থায়ী মঞ্চ বা জায়গা ছিল না। কিন্তু আব্দুল রহিমের এই সিদ্ধান্ত গ্রামবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, কোনও চাপ বা লোভ নয়, বরং স্বেচ্ছায় তিনি নিজের জমি এখানে দান করেছেন।

বলাবাহুল্য, ‘কাল্লু’ নামে পরিচিত আব্দুল রহিম শুধুমাত্র জমি দান করেননি, বরং তিনি রামলীলার সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। একসময় তিনি নিজেও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর গত কয়েক বছরে রামলীলার আয়োজনে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে আসেন তিনি। বর্তমানে তাঁর তিন ছেলে এবং তিন মেয়ে রয়েছে। তিনি এখন দর্জির কাজ করেন।

আরও পড়ুন: পুলিশের জন্যই সর্বোচ্চ সাজা হয়নি! সামসেরগঞ্জ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

এ বিষয়ে আদর্শ রামলীলা কমিটির সম্পাদক বিনয় শুক্লা জানিয়েছেন, এতদিন পোশাক, গয়না, অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য আলাদা করে জায়গা না থাকায় বিভিন্ন রকম সমস্যা পোহাতে হতো। কিন্তু এবার তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। পরিকল্পনামাফিক ১৫ ফুট চওড়া এবং ৩০ ফুট লম্বা স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হবে। আর পোশাক বদল এবং মেকআপের জন্য আলাদা ঘরও তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সাজসজ্জা এবং সামগ্রী সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই গ্রামবাসীরা প্রায় ৭ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে জোগাড় করতে পেরেছে।

আরওUttar Pradesh
google button