বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভোটের কারণে মোটরবাইকে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। নতুন নির্দেশ জারি হতেই বারবার এমন অভিযোগ তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বাইকে জারি করা বিধিনিষেধ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার, উচ্চ আদালতের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও একেবারে স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচন কমিশন ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এভাবে নাগরিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
আদালতে হলফনামা জমা দেবে কমিশন
জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্বাচনের মাঝে সুপ্রিম কোর্টের মোটর বাইকে নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে সরব হন। বিচারপতি একেবারে খোলাখুলি জানান, “আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। এইসব বিধিনিষেধ জারি করে সাধারণ নাগরিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দিন।”
বিচারপতির বক্তব্য ছিল, গাড়ি বন্ধ করে দিলেও লোকজন বোমা বন্দুক নিয়ে হামলা চালাতে পারে! বিচারপতির সংযোজন, “গত পাঁচ বছরে এখানে বাইকবাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কিংবা অন্যভাবে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করেছে এমন নজির আছে? থাকলে আদালতকে দেখান! ভোটের ঠিক আগে এমন সব পদক্ষেপ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই নেওয়া হচ্ছে!”
এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির পর্যবেক্ষণের পরই আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, ওই হলফনামায় ঠিক ভোটের দুইদিন আগে কেন মোটরবাইকে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হল এবং বাংলায় এই বিধিনিষেধ কতটা যুক্তিযুক্ত সে সবই তুলে ধরতে পারে কমিশন।
অবশ্যই পড়ুন: DA নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল অর্থ মন্ত্রক
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভোটের দুদিন আগে থেকে কোনও বাইক মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের ওই বিজ্ঞপ্ততিতে খুব স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের দুদিন আগে সকাল 6টা থেকে সন্ধ্যা 6টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। তবে এই সময় বাইকের পেছনে কাউকে বসানো যাবে না। একই সাথে ভোটের দিন সকাল 6টা থেকে সন্ধ্যা 6টা পর্যন্ত বাইক চালানো যেতে পারে এক্ষেত্রে শর্ত হল, ভোট দিতে যাওয়া কিংবা জরুরী কোনও কাজেই বাইক নিয়ে বেরনো যাবে। কমিশনের এমন নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন বিচারপতিরা।










