প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি জেলায় জেলায়। রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের ডোমকল (Domkal)। এখানে নির্বাচন কমিশনের তরফে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও তৃণমূল প্রার্থীকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে তো কোথাও আবার তৃণমূল কর্মীদের (TMC Workers) তীব্র হাতাতাতির খবরও মিলছে।
Booth 234 – TMC Candidate Chandan Mondal was trying to influence the ordinary voters, people unitedly raised slogans and forced him to go back. pic.twitter.com/HqVZKlkdHG
— Sudhanidhi Bandyopadhyay (@SudhanidhiB) April 23, 2026
উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের ডোমকল
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, বৃহস্পতিবার সকালে মুর্শিদাবাদের ডোমকলের রায়পুর গ্রামের সাধারণ ভোটাররা যখন বুথমুখী হচ্ছিলেন, সেই সময় একদল দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের পথ আটকায় বলে অভিযোগ। ভোটারদের দাবি, তাঁদের হুমকি দেওয়া হয় যে ভোট দিতে গেলে বড়সড় বিপদ হতে পারে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগের তির সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এমনকি উত্তেজনার সময় এলাকায় এদিন কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা মেলেনি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডোমকল থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল কনভয়।
তৃণমূল ও সিপিএম সমর্থকদের মধ্যে মারপিট
সূত্রের খবর, নির্বাচনের আবহে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছিল কিন্তু সেখানেই ঝামেলা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। এদিকে, গতকাল, রাতে মুর্শিদাবাদের ডোমকলের কারিগরপাড়ায় তৃণমূল ও সিপিএম সমর্থকদের মধ্যে বচসা সংঘর্ষের আকার নিয়েছিল। দুই দলের মারামারির মধ্যে একদিকে যখন সিপিএম সমর্থক রাকিবুল আনসারী ও তাঁর বাবা মহবুল আনসারী গুরুতর জখম হন অন্যদিকে তখন জখম হয়েছেন দুই তৃণমূল কর্মী আমিরউদ্দিন মন্ডল ও তাঁর পুত্র আলামিন মন্ডল। বর্তমানে চারজনকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি বেশ থমথমে।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুমকি শোরগোল
ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, রাতে প্রচার সেরে ফেরার সময় হাসুয়া নিয়ে সিপিএম কর্মীদের উপর চড়াও হয় তৃণমূল কর্মীরা। সেই সময় প্রতিরোধ করলে বিপক্ষের দু’জন জখম হন। অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, সিপিএমের লোকেরা তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে টিপ্পনী কাটছিল। সেই সময় প্রতিবাদ করায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয় সিপিএম কর্মীরা। এসবের মাঝেই এদিকে মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভার শিবনগর এলাকায় বোমাবাজির ঘটনা ঘটে গতকাল।
আরও পড়ুন: ওয়াকফ হিংসায় বাবা-ছেলের খুনের প্রতিবাদ এবার ভোটে, এগিয়ে এলেন দাস পরিবার
জানা গিয়েছে, নওদা বিধানসভার শিবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে বোমাবাজি হয়। অভিযোগের আঙুল উঠেছে হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে। জখম হয়েছেন স্থানীয় এক মহিলা। এদিকে তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ সকালে সাংবাদিকদের সামনে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলার আগে এটা দেখা উচিত যে আগে তাঁর দলের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছিল। সেই হামলার পাল্টা হিসেবেই যে এই ঘটনা। অন্যদিকে ময়নায় তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডলকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান তুললেন ভোটাররা।










