রুপশ্রী প্রকল্পের ফর্মে বড় বদল, ২৫ হাজার পেতে কী কী করতে হবে? জানাল রাজ্য সরকার

Published:

Rupashree Scheme

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভুয়ো আবেদন ঠেকাতে এবার রুপশ্রী প্রকল্প (Rupashree Scheme) নিয়েও বিরাট সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal)। সরকার গঠন করার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আগের সরকারে চালু করা কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। সেই মতো রুপশ্রী প্রকল্পও চালু থাকবে, যার আওতায় মেয়েরা বিয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সুবিধা পায়। তবে এবার এই প্রকল্পের আবেদন ফর্মে আনা হলো বিরাট বদল। এবার ফর্মে দিতে হচ্ছে আবেদনকারীর ভোটার কার্ডের তথ্য। কী কী বদল আনা হল তা জানুন বিস্তারিত।

রূপশ্রী প্রকল্প নিয়ে বিরাট আপডেট

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়েদের জন্য এই রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন। যার আওতায় গরিব পরিবারের তরুণীদের বিয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করা হতো। তবে প্রথম বিয়ের জন্যই শুধুমাত্র এই সুবিধা দেওয়া হতো। দ্বিতীয়বার বিয়ের ক্ষেত্রে তা আইনত অপরাধ বলে গণ্য করা হতো। এমনকি পাত্র এবং পাত্রীকে সরকারী হিসাব অনুযায়ী বিবাহযোগ্য হতে হতো, নাহলে মিলত না সুবিধা।

এই প্রকল্পের আবেদন ফর্ম পূরণ করে অফলাইনে জমা করতে হতো। তারপর বিয়ের আগে আবেদনকারী পাত্রীর অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পাঠানো হতো রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। তবে আগে আবেদন ফর্মে ভোটার কার্ডের তথ্য দিতে হতো না। কিন্তু এবার আনা হয়েছে বদল। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেছেন, ভুয়ো আবেদন ঠেকাতেই এবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এবং আবেদন করতে হবে সম্পূর্ণ নতুনভাবে।

আরও পড়ুন: উপেন্দ্র দ্বিবেদীর উত্তরসূরি ধীরজ শেঠ, নতুন সেনাপ্রধান পেল ভারত

কী কী বদল আনা হল ফর্মে?

রূপশ্রী প্রকল্পের ফর্মে এবার যে পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

  • আবেদন ফর্মে আগে বিশ্ব বাংলার লোগো ছিল। কিন্তু নতুন ফর্মে সেই লোগো সরিয়ে অশোক স্তম্ভর লোগো রাখা হয়েছে।
  • পুরনো ফর্মে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস দিতে হতো। এপিক নম্বর দেওয়ার জায়গা থাকত না। কিন্তু নতুন ফর্মে এপিক নম্বর বসানোর জায়গা রয়েছে।
  • আবেদনটির নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সিরিয়াল নম্বর এবং পার্ট নম্বর দিতে হচ্ছে।
  • যদি আবেদনকারীর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে তাঁর পরিবারের যে কোনও সদস্যদের এপিক নম্বর দিতে বলা হচ্ছে। তার জন্য নতুন একটি কলামও যুক্ত করা হয়েছে।
  • ভোটার তালিকায় নতুন আবেদন করা হলে অবশ্যই একনলেজমেন্ট দিতে হবে।
  • এছাড়া ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন কিনা তা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে উত্তর দিতে হবে।