বোন আক্রান্ত ক্যান্সারে, ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে NEET ক্র্যাক সাগরের

Published:

NEET UG 2026 Success Story of Sagar Regar

অনন্যা সরকার, কোটা: একটা সময় চরম প্রতিকূলতাই জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর কারণ হয়ে ওঠে। আপনজনদের কষ্ট এতটাই নাড়া দেয় মনে যে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসাই জীবনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। এমনই গল্প শিক্ষার পীঠস্থান কোটার নিকটবর্তী কাইথুন শহরের গোদল্যাখেদি গ্রামের ছাত্র সাগর রেগারের (NEET UG 2026 Success Story of Sagar Regar)। সাগর এবছর সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় (NEET) ৭২০-এর মধ্যে ৫৬৪ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক (AIR) ২৭১৫৭ ও তফসিলি জাতি ক্যাটাগরিতে সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ৬৮৪ লাভ করে তাঁর ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। 

নিরক্ষর পরিবার থেকে উঠে এসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ

সাগর রেগার জানিয়েছেন, তাঁর বিশাল পরিবার এবং সেখানে বেশিরভাগ সদস্যই নিরক্ষর। শিক্ষা ও সচেতনতার এতটাই অভাব যে, পরিবারের অনেকেই মাদকাসক্ত। গুটখা খাওয়ার কারণে তার মাসির মেয়ের (বোন) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়, যা তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল। সমাজ পরিবর্তনের কান্ডারি হল শিক্ষা। তাই ডাক্তার হয়ে পরিবার ও নবীন প্রজন্মকে শিক্ষার গুরুত্ব এবং মাদকমুক্ত জীবন সম্পর্কে সচেতন করার অঙ্গীকার করেছেন সাগর।

আরও পড়ুন: মায়ের হার্টের অসুখ, ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবা, পরিবার সামলে NEET ক্র্যাক নদিয়ার অলীকের

সাগর কোটায় থেকে অ্যালেন ইনস্টিটিউটের ‘অ্যালেন শিক্ষা সম্বল যোজনার (Allen Shiksha Sambal Yojana) অধীনে নিটের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি জানান, অ্যালেন শিক্ষা সম্বলের সমর্থন ছাড়া তাঁর পক্ষে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হত না। এই যোজনার অংশ হওয়ার ফলে কোটায় পড়াশোনার পাশাপাশি বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পান সাগর। এই কারণে সারা বছর মনোসংযোগ ও অধ্যাবসায়ের সাথে পড়াশোনা করতে এবং নিজের ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। 

সাগরের বাবা মুরলী রেগার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাঙা জিনিসপত্র সংগ্রহ করে সংসার প্রতিপালন করেন। তাই অর্থের অভাবে তাঁর পক্ষে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তখন কাইথুন সরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল তাঁকে পথ দেখান এবং শিক্ষা সম্বলের কথা জানান। শিক্ষকের উৎসাহে তিনি এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন এবং নির্বাচিত হন। এখান থেকেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। এই কর্মসূচির অধীনে তিনি অ্যালেন ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে নিটের কোচিং পান, অন্যদিকে এলএন মাহেশ্বরী পরমার্থ ট্রাস্ট বিনামূল্যে তাঁর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

আরও পড়ুন: চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে NEET-এ অসামান্য ফল প্রিয়ব্রতর, নবান্ন দিল সংবর্ধনা

সাগরের বাবা জানান, সাগর সবসময় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত, কিন্তু তার খরচ চালানোর মতো টাকা তাঁদের ছিল না। সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করলেও, শিক্ষার প্রতি সাগরের আগ্রহ কখনও কমেনি। সাগরের মা একজন গৃহবধূ এবং তিনি বাড়িতে আনা ভাঙা জিনিসপত্র থেকে ভাঙা জিনিস আলাদা করতে সাগরের বাবাকে সাহায্য করেন। দুই কামরার ছোট্ট সাধারণ বাড়ি তাদের। সাগরের আরও দুটি বোন রয়েছে। তার বড় বোন মানসী দ্বাদশ শ্রেণিতে বায়োলজি নিয়ে পড়ছে, আর ছোট বোন ইশিকা এখন দশম শ্রেণিতে রয়েছে। সাগর জানান তাঁর বাবা নিরক্ষর এবং মা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা দুজনেই শিক্ষার গুরুত্ব বোঝেন। অর্থের অভাব থাকলেও, সাগরের এই যাত্রায় বাবা মা-ই তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।