অনন্যা সরকার, কলকাতা: সম্প্রতি চরম যাত্রী ভোগান্তির চিত্র দেখা গেল বাংলাদেশে (Bangladesh)। খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ‘সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের চালক (Loco Pilot) হঠাৎ মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে রেখে উধাও হয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় স্টেশন চত্ত্বরে। ট্রেন থামানোর পর এক ঘন্টা ধরে চালকের অনুপস্থিতে শতাধিক রেল যাত্রী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। কিন্তু কেন এমন করলেন চালক? কী তথ্য উঠে আসছে, আসুন দেখে নিই।
চালক উধাও ট্রেন ফেলে
রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী ওই স্টেশনে দু’মিনিট দাঁড়ানোর কথা। কিন্তু নির্ধারিত দুই মিনিট বিরতির পর, ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া সত্ত্বেও তা স্টেশন ছাড়েনি। পরে খোঁজখবর করে জানা যায়, চালকই নেই তাঁর স্থানে, ইঞ্জিনের দরজা বন্ধ রেখে তিনি উধাও।
ওই ট্রেনের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে রাজশাহীর উদ্দ্যেশে নির্ধারিত সময়েই ছাড়ে এই আন্তঃনগর ট্রেন। তবে মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এসে চালক ট্রেনটিকে প্ল্যাটফর্মে থামিয়ে রেখে নেমে চলে যান। প্রায় একঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও ট্রেন না ছাড়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। প্রচন্ড গরম এবং ঠাসাঠাসি ভিড়ের মধ্যে ট্রেন যাত্রী ও প্ল্যাটফর্মে থাকা মানুষজন চরম ভোগান্তির শিকার হন। এতক্ষণ ধরে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না করে ট্রেন থামিয়ে রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে যাত্রীরা এর কারণ জানতে স্টেশন মাস্টারের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখানেও সেই একই অবস্থা স্টেশন মাস্টারের ঘরটিও সম্পূর্ণ ফাঁকা। স্টেশন মাস্টার তো দূর, রেলের কোনো কর্মকর্তাকেই চোখে পড়েনি।
আরও পড়ুন: ঢাকায় বাতিল অনুপম রায়ের কনসার্ট! শেষ মুহূর্তে অনুমতিপত্র দিল না বাংলাদেশ সরকার
ঘটনার অভিঘাতে স্টেশন চত্বরে হট্টগোল সৃষ্টি হয়ে যায়। অবশেষে ট্রেনের মাইক দিয়ে যাত্রীদের নিজ নিজ কোচে ফিরে যাওয়ার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানায়। দীর্ঘ ১ ঘণ্টার বেশি সময় থেমে থাকার পর মোবারকগঞ্জ স্টেশন থেকে সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস আবারও রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলে যাত্রীরা আশ্বস্ত হন। সাগরদাঁড়ি ট্রেনের গার্ড শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুলনা থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছেছিল, কিন্তু ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পরও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় চালক ট্রেন রেখে চলে গেছেন। তবে তিনি কেন এরকম করেছেন, সেসম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি কেউ।










