গ্রেফতার হতেই জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ভাঙচুর, পুষ্পার কার্যালয় থেকে উদ্ধার বিপুল ত্রাণ

Published:

Jahangir Khan

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের (Jahangir Khan) কার্যালয়ে মিলল এবার অজস্র সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। ফলতার (Falta) তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান গ্রেপ্তার হতেই চরম উত্তেজনা এলাকায়। জানা গিয়েছে, আজ বাংলা-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁর বাড়ি ও বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিসে জনরোষ আছড়ে পড়ে। ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী।

উদ্ধার সরকারি ত্রাণ সামগ্রী

সূত্রের খবর, আজ, সোমবার সকালে পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাংলা-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে। আর সেই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় এলাকায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। তাঁর বাড়ি ও বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিসে ১৫ বছরের চাপা জনরোষ যেন আছড়ে পড়ল। ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। এদিকে পার্টি অফিসে ঢুকতেই উদ্ধার হল হাজার হাজার সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের।

পুনর্নির্বাচন থেকে সরে এসেছিলেন ‘পুষ্পা’

গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা জাহাঙ্গির খান। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ বিজেপি এবং স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল বহু দিন ধরে ভোটারদের ভয় দেখাতেন। তৃণমূলকে ভোট না-দিলে হুমকি দিতেন। তবে এবার সেই পুষ্পা গ্রেফতার হওয়ায় যেন এলাকায় খুশির আমেজ ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন: NDA-র শরিক হতে চায় ২০ তৃণমূল সাংসদ, লোকসভার স্পিকারকে চিঠি

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আর তারপর থেকেই কোনও খোঁজ মিলছিল না। পরে ট্র্যাক করে জন্য যায় তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নেপাল সীমান্তে ঘরভাড়া নিয়ে থাকছেন। এমনকি তাঁর সন্তানদেরকেও ওখানকার স্কুলে ভর্তির তোড়জোড় করছেন। কিন্তু সবটাই এবার ভেস্তে গেল। পুলিশ সূত্রের খবর, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, লুঠ-সহ একাধিক অভিযোগে মোট ৭টি FIR দায়ের হয়েছে।