প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar Scam Case) প্রকল্পে উঠে আসছে একের পর এক ভুয়ো প্রাপকদের নাম। আর এবার রাকিবুল শেখ, মোস্তাফিজুর রহমানের পর তালিকায় উঠে এল তারিকুর রহমানের নাম। জানা গিয়েছে, তাঁর এবং পরিবারের সকল সদস্যদের মিলিয়ে মোট ৮টি অ্যাকাউন্টে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের’ (Lakshmir Bhandar) টাকা ঢোকে। পুরুষ হয়েও মহিলাদের সরকারি প্রকল্পে এইভাবে হস্তক্ষেপ করায় গ্রেফতারির মুখে পড়লেন তাঁরা, চলছে তদন্ত।
গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান
গত বৃহস্পতিবার, নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় লক্ষ্মীর ভান্ডারের তছরুপ নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পুরুষ হয়েও বহরমপুরের রাধারঘাটের শিয়ালমারার বাসিন্দা রাকিবুল শেখ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে আসছে। আর এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসা মাত্রই দ্রুত গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই শুরু হয় জিজ্ঞসাবাদ, আর তাতেই মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির সন্ধান পায়। তাঁকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে এইসব কিছুর পিছনে একটি গ্যাং কাজ করে। আর এই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আরও অনেকে। আর তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্লায়েন্ট হলেন তারিকুর রহমান।
৮টি অ্যাকাউন্টে ঢুকত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের
তদন্ত যত এগোচ্ছে, পুলিশ জানতে পারছে এক-দুটো নয়, শয়ে শয়ে পুরুষের অ্যাকাউন্টে দিনের পর দিন ঢুকেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। এমতাবস্থায় পুলিশের নজরে এল, তারিকুর রহমান এবং তাঁর পরিবার। দেখা গিয়েছে তারিকুর রহমানের নিজের নামে ৩টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩টি অ্যাকাউন্ট এবং দুই ছেলের নামেও রয়েছে ২টি অ্যাকাউন্ট সব মিলিয়ে মোট ৮টি অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকত। হতবাক পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরাও। পুরুষদের এভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। তাই রাজ্যজুড়ে চলছে অভিযান এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: একাধিক অ্যাকাউন্টে ঢুকত লক্ষ্মীর ভান্ডার, অর্ধেক কাটমানি নিত মুস্তাফিজুর
প্রসঙ্গত, আজ, শনিবার বিধাননগরের মহকুমা হাসপাতালে টিককরণেরকর্মসূচিতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার বিভ্রান্তি দূর করতে এবার বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মচারীরা। ফর্মপূরণ করতে সমস্যা হলে বাড়িতে গিয়ে আমাদের লোকেরা ফিল আপ করে দিয়ে আসবে। অনেক জায়গায় পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছে, গ্রেফতারও হয়েছে। আগামী বুধবার থেকে প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে টাকা পাক।”










