সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পসমন্দা মুসলিম (Pasmanda Muslim) সম্প্রদায়কে অনন্য অগ্রসর শ্রেণী বা ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন কোনও সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে সংরক্ষণ তালিকায় যুক্ত করা আদালতের কাজ নয়। এটি সরকার এবং সংসদের নীতিগত সিদ্ধান্ত।
বড়সড় রায় সুপ্রিম কোর্টের
রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন শুনানির সময় আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্ত দিয়েছিলেন, পসমন্দা মুসলিমদের ওবিসি শ্রেণীর মতো সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া উচিত। তবে এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন, আদালতের কাছে কার্যত আইন প্রণয়নের আবেদন করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনও মুসলিম গোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ নীতিগত বিষয়, যা বিচার বিভাগের আওতার বাইরে।
এমনকি আদালত এও জানিয়েছে, ওবিসি মর্যাদা নির্ধারণে শুধুমাত্র জাতিভিত্তিক নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টিও বিবেচনাযোগ্য। কোন গোষ্ঠী প্রকৃতপক্ষে অনগ্রসর তা নির্ধারণের বিস্তারিত তথ্য ভিত্তিক সমীক্ষা এবং পর্যালোচনা দরকার। আর বেঞ্চ আরও প্রশ্ন তুলেছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশকে অনগ্রসর এবং অন্য অংশকে অনগ্রসর নয়, এরকম ভাবে শ্রেণীবিন্যাস করার ক্ষমতা আদালতের নেই।
তবে আবেদনকারীর পক্ষ অন্ধ্রপ্রদেশের মুসলিমদের জন্য ৪ শতাংশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত মুলতুবি মামলার উল্লেখ করেছিল। কিন্তু আদালত জানায় যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ এর আওতায় দায়ের করার রিট পিটিশনে এই ধরনের জটিল নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংরক্ষণ তালিকায় নতুন কোনও সম্প্রদায়কে যুক্ত করা হলে তার জন্য বিস্তারিত সমীক্ষা, পরিসংখ্যান আর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যা সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
আরও পড়ুন: মাসে মিলবে ২৫০০০ টাকা! ইস্তেহারে বড় চমক দিতে পারে বিজেপি
কারা এই পসমন্দা মুসলিম?
জেনে রাখা ভালো, পসমন্দা শব্দের অর্থ হল পিছিয়ে পড়া বা প্রান্তিক সম্প্রদায়। আর পসমন্দা মুসলিমরা এমন একটি জাতি গোষ্ঠীর সমষ্টি, যাদেরকে সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর বলেই মনে করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই মূল ধারার সংরক্ষণ সুবিধা পাওয়ার দাবি উঠেছিল এই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে রায়ে স্পষ্ট যে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সরকার বা সংসদকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।












