ক্লাস এইটের NCERT-র বইতে উল্লেখ ‘বিচারবিভাগে দুর্নীতি!’ চরম ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির

Published:

Supreme Court on NCERT Book
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ অর্থাৎ NCERT এর অষ্টম শ্রেণীর সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্য বইতে এবার ‘বিচার বিভাগীয় দুর্নীতি’ শব্দবন্ধ থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত (Supreme Court on NCERT Book)। উক্ত অধ্যায়ে বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতিকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, আর ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত বাধাগুলোর তালিকা দেওয়া হয়। তা নিয়েই প্রধান বিচারপতি এদিন বলেন, এটা বিচার বিভাগ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আর এর শিকড় অনেক গভীর। সুপ্রিম কোর্ট কোনও ভাবেই বিচার বিভাগের মর্যাদা বা সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা মেনে নেবে না।

আসলে ওই অধ্যায়ে বলা ছিল যে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৮১ হাজার বিচারাধীন মামলা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের উচ্চ আদালতগুলিতে প্রায় ৬.২৪ মিলিয়ন মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া জেলা এবং অধস্তন আদালতগুলিতে প্রায় ৪৭ মিলিয়ন মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে স্বতপ্রণোদিতভাবে গ্রহণ করে। আর প্রধান বিচারপতি জানান যে, এ নিয়ে তিনি অসংখ্য ফোন আর মেসেজও পাচ্ছেন। হাইকোর্টের বিচারপতিরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন।

অষ্টম শ্রেণীর বইতে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’

আদালতের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল এই বিষয়টিকে তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, অষ্টম শ্রেণীর একটি বইতে বিচার বিভাগে দুর্নীতি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে প্রবীণ সদস্যরা উদ্বিগ্ন। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ সদস্য হিসেবে বিচলিত। স্কুলের বইতে এভাবে বিচার বিভাগকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন যে, তিনি আগে থেকেই এই বিষয়টি জানেন, এবং এ নিয়ে অনেক ফোন ও মেসেজও পাচ্ছেন। হাইকোর্টের বিচারপতিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিচার বিভাগের সততা নিয়ে কেউ এরকম ভাবে প্রশ্ন তুলতে পারে না।

এমনকি ওই বইটিতে ভারতের প্রাক্তন সিজিআই বি আর গভয়-এর উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক শুনানিতে বলেছিলেন যে, দুর্নীতি, অসদাচরণ জনসাধারণের আস্থাভাজনকে নষ্ট করে। কিন্তু এই আস্থা পুনঃনির্মাণের পথ ক্ষমতাবলে ফিরিয়ে আনতে হয়। পাশাপাশি নিয়োগ জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের সুযোগ নিয়ে সরকার এবং বিচার বিভাগের মধ্যে যে বিতর্কের বিষয়টি রয়েছে, তাও তুলে ধরা হয় ওই অধ্যায়ে। আর এ নিয়েই তোলপাড় সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারের কর্মকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার নগদ ৪ কোটি সহ প্রচুর সোনা

এ বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, বইয়ের কাঠামোতে সংবিধানের মূল চেতনা আর প্রাতিষ্ঠানিক সততার কোনও প্রতিফলনই নেই। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বিষয়টি সরকার এবং বিচার বিভাগের মধ্যে সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু এই নিয়ে আদালত ব্যবস্থা নেবে। এটি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আঘাত বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, মনে হচ্ছে যেন বিচার বিভাগকেই এবার নিশানা করা হচ্ছে। রাজনীতি, মন্ত্রী, আমলাদের দুর্নীতির কথা বইতে নেই। শুধুমাত্র বিচার বিভাগকেই দেখানো হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।