প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নজরে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। সেই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠভাবে সুসম্পন্ন হয়, তার জন্য চলতি বিধানসভা নির্বাচনে এ বার নজরদারি আরও বাড়াতে চাইছে কমিশন (Election Commission Of India)। কিন্তু বিভিন্ন নির্বাচনে প্রায়শই বাইক নিয়ে র্যালি (Bike Rally) করার সময় অশান্তির খবর উঠে আসে শিরোনামে। তাই সেই ধরনের ঘটনা এড়াতেই এবার কমিশন কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে। জানা যাচ্ছে সুপার এমার্জেন্সি ছাড়া সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাস্তায় আর বাইক নিয়ে বেড়ানো (No Bike Ride) যাবে না।
বাইক মিছিল নিয়ে কড়াকড়ি কমিশন
নির্বাচন আসতে না আসতেই বাইক বাহিনীর ‘অত্যাচার’ কার্যত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও তৃণমূলের তরফে তো কখনও আবার বিজেপির তরফে চলছে দেদার প্রচার। যার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। তবে এবার তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বদ্ধপরিকর হল কমিশন। জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাস্তায় বাইক নিয়ে বেড়ানো যাবে না। বাইক মিছিল তো বন্ধই, সেই সঙ্গে খুব জরুরি দরকার ছাড়া বাইক নিয়ে বেড়ানো যাবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়। আর তাতেই মাথায় হাত পড়ল সকলের।

প্রকাশিত হল নয়া বিজ্ঞপ্তি
নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, “সন্ধে ৬ টার পর কোনও বাইক র্যালি করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বেড়ানো যাবে না। শুধুমাত্র হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন, সন্তানকে স্কুল থেকে আনার প্রয়োজনে রাস্তায় বাইক নিয়ে বেড়ানো যাবে। এমনকি প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনের আসনেও কাউকে বসানো যাবে না।” তবে যদি এর বাইরে কারও বাইক নিয়ে বেড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্দিষ্ট থানা থেকে অনুমোদন বা পারমিশন নিতে হবে। এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই শাসকদলের তরফে উঠে এলো একাধিক প্রশ্ন।
প্রশ্ন তুলছে শাসকদল
বর্তমান সময়ে বাইক স্কুটির উপর নির্ভর করে নানা কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। অনলাইনে খাবার ডেলিভারি করা থেকে শুরু করে কোনো গন্তব্যস্থলে যাতায়াত করার জন্য অনেকেই Ola, Uber এবং Rapido-এর মাধ্যমে বাইক বা স্কুটিতে যাতায়াত করে তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁদের কী হবে। শাসকদলের তরফে অভিযোগ , ‘সুপার এমার্জেন্সি চালু করেছে। মানুষের জীবন-জীবিক চলে এই বাইকে চেপেই। তাহলে সেটা কেন নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিচ্ছে?” যদিও কমিশনের স্পষ্ট দাবি, শান্তিপূর্ণ ভোটের উদ্দেশেই এই ব্যবস্থা। এছাড়াও ভোটের আগে থেকে রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, এগিয়ে আসবে গরমের ছুটি? জানুন
রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ার জন্য গলি বা ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত বুথগুলির ক্ষেত্রেও করা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। জানা গিয়েছে, ওই সব এলাকায় অশান্তি হলে পুলিশ যাতে দ্রুত সেখানে পৌঁছতে পারে, তার জন্য এবার মোটরবাইক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে পুলিশের বড় গাড়ি বা পিসিআর ভ্যান পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি থানার অধীনে একটি দক্ষ মোটরবাইক বাহিনী প্রস্তুত রাখতে হবে।










