অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের মেধাবী ছাত্রীদের অভাব নেই। কিন্তু উচ্চশিক্ষা বা প্রতিযোগিতামূলক চাকরি পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ অর্থের খরচ হয়, তা বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষেই অসম্ভব। যার ফলে বহু মেয়ের স্বপ্ন অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু জানেন কি এসমস্ত আর্থিকভাবে কম স্বচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা মেয়েদের জন্য কেন্দ্রের একটি প্রকল্প রয়েছে, যার নাম সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (Sukanya Samriddhi Yojana)। এই প্রকল্প থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়। তবে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সম্পর্কে অবগত নন দেশের বহু মানুষ, ফলে অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় তাদের। আসুন তাহলে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা যোজনার সুবিধা, যোগ্যতা ও শর্তগুলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা কী?
এটি কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়েদের জন্য চালু করা একটি প্রকল্প। বাবা মায়েরা যদি কন্যা সন্তানের জন্য এই প্রকল্পের অধীনে একটু একটু করে টাকা জমানো শুরু করেন, তাহলে একটা সময় পর ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়। সরকারের তরফে ভালো অঙ্কের সুদ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সুবিধা পেতে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় যুক্ত হতে কী কী যোগ্যতা দরকার?
বাবা-মা বা আইনি অভিভাবককে মেয়ের বয়স ১০ পেরোনোর আগে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তারপর ওই অ্যাকাউন্টে টানা ১৫ বছর টাকা জমা করতে হবে, যদিও অ্যাকাউন্টটির মেয়াদ ২১ বছরে। অর্থাৎ ১৫ বছর পর টাকা জমা দেওয়া বন্ধ করলেও বাকি ৬ বছর সুদ পাওয়া যায়।
এবার প্রশ্ন হল সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে কত টাকা জমা করলে কত সুদ বা রিটার্ন পাওয়া যায়? এই যোজনায় বর্তমানে এক অর্থবর্ষে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করা যেতে পারে। যদি কোন অভিভাবক একটানা ১৫ বছর ১.৫ লক্ষ টাকা প্রতিবছর করে জমা করেন এবং সুদের হার ৮.২% থাকে, তাহলে ২১ বছর পর ৭২ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকার রিটার্ন পাওয়া যায়। অর্থাৎ সুদ থেকে পাওয়া টাকার অঙ্ক বিনিয়োগ করা টাকার থেকে অনেকটাই বেশি হয়। তবে সুদের হার অনুযায়ী রিটার্নের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। ইন্টারেস্ট রেট ৭.৭%, ৮.২% এবং ৮.৫% হতে পারে।
মাসের হিসেবে, যদি কেউ প্রতি মাসে ১,৮০০ টাকা জমা করেন তাহলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা রিটার্ন পেতে পারে। ৪৫০০ টাকা প্রতি মাসে জমা করলে রিটার্ন হবে ২৫ লক্ষ টাকা। সেরকমই মাস ৯ হাজার টাকা জমা করলে ভবিষ্যতে ৫০ লাখ টাকা রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুকন্যা সমৃদ্ধির অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। কন্যা সন্তান জন্মানোর কিছুদিনের মধ্যেই যদি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, তাহলে বাড়তি সুদের সুবিধা মেলে। দেরি করে খুললে রিটার্নের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ দেশের বাজারে কমতে পারে সোনা, রুপোর দাম! বিরাট সিদ্ধান্ত সরকারের
এই অর্থ বাবা মায়েরা কন্যা সন্তানের উচ্চ শিক্ষার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। মেয়াদ ফুরানোর আগেও টাকা তোলা যায় কিন্তু তার জন্য মেয়েটিকে অবশ্যই দশম শ্রেণী পাস হতে হবে এবং বয়স ১৮-এর বেশি হতে হবে। বিয়ের খরচের জন্য ২১ বছরের আগে টাকা তোলা যায় কিন্তু তার জন্যও শর্ত বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।










