সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে এবার নতুন সমীকরণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফরের (Narendra Modi Israel Visit) আগে ষড়ভুজ জোট বা সম্ভাব্য হেক্সাগনাল অ্যালায়েন্স (Hexagonal Alliance) গঠনের প্রস্তাব সামনে আনলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আর এই প্রস্তাব ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি সাউথ ব্লক, কিন্তু প্রতিরক্ষা আর কূটনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন। ভারত কি তাহলে এই জোটে যোগ দেবে? আর দিলে লাভ বা ক্ষতি কতটা হবে?
কী এই ষড়ভুজ জোট?
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়া এবং আশেপাশের অঞ্চলকে নিয়ে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা রয়েছে। আর এর মূল লক্ষ্য হবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ইঙ্গিত মিলছে, সম্ভাব্য এই জোটে গ্রিস এবং সাইপ্রাসের মতো দেশগুলি থাকতে পারে। পাশাপাশি আরব এবং আফ্রিকার একাধিক রাষ্ট্রকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারতের ভূমিকা চাইছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের লাভ কী এতে?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জোটে যোগ দিলে কয়েকটি ক্ষেত্রে ভারত সুবিধা লাভ করতে পারে। প্রথমত, ইজরায়েলের উন্নত গোয়েন্দা পরিকাঠামো বিশেষ করে মোসাদ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য ভারতের কাছে আসতে পারে। আর সেগুলো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভূমিকা নেবে। দ্বিতীয়ত, গত কয়েক বছর ধরেই ভারত এবং ইজরায়েলের যৌথ উদ্যোগে একাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি হয়েছে। আর ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্ভিদের বিষয়। আর এই সূত্রে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা জোট আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামাবাদ মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে আলাদা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সমঝোতা এবং তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে। সেই পরিস্থিতির দিক থেকে পাল্টা কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করা ভারতের পক্ষেও প্রয়োজন হতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আরও পড়ুন: পাঠ্যক্রমে এবার যুক্ত হবে সঙ্গীত-নৃত্য, বার্ষিক পরীক্ষায় মিলবে নম্বরও, উদ্যোগ শিক্ষা দফতরের
রয়েছে একাধিক ঝুঁকি
তবে এই বিষয়টি একেবারে যে ঝুঁকিমুক্ত তা বলা যায় না। কারণ, অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উপর এবার প্রভাব পড়তে পারে। আর সৌদি আরব বা উপসাগরীয় দেশগুলি কী অবস্থান নেবে তাও এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি সামরিক জোটে যুক্ত হলে সংঘাত পরিস্থিতিতে ভারতকে এবার সরাসরি জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। এমনকি কূটনৈতিক রক্ষা ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে পারে নয়াদিল্লি। যদিও দেশের বিরোধী দল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই সফর এবং সম্ভাব্য জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এখন দেখার, মোদীর এই সফর ভারত আর ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঠিক কতটা শক্তিশালী করে এবং ভারত এই জোটে যোগ দেয় কিনা।












