সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদল তথা বিরোধী দল নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরীয়া। আর সেই আবহে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম পথিকৃৎ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chattopadhyay) পরিবারের সদস্য রাজনীতিতে পা রাখলেন। তাও যোগদান করলেন গেরুয়া শিবিরে। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেই পদ্ম শিবিরে যোগদান করেছেন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থেকে এবার রাজনৈতিক ময়দানে
জানিয়ে রাখি, শ্রম দফতরের শীর্ষ আধিকারিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সরকারি প্রশাসনের তাঁর অভিজ্ঞতা এবার তিনি রাজনৈতিক পরিসরে কাজে লাগাতে চাইছেন। যোগদানের পর রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষ করে পুরনো এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থার পরিবর্তে চালু হওয়া এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক কোনও রকম কার্যকর ফল দিতে পারেনি। আর লক্ষ লক্ষ যুবকের নাম নথিভুক্ত থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ আদতে কিছুই হয়নি।
এমনকি সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত প্রকল্পের দিকনির্দেশনারও অভাব রয়েছে। আগের যুবশ্রী প্রকল্প বন্ধ করে যুবসাথী নামে নতুন ভাতা চালু করা হলেও দৈনিক স্বল্প পরিমাণ অর্থ দিয়ে কোনও রকম সমস্যার সমাধান হয় না। এতে বেকারত্ব দূর হবে না বলেই মত প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: যাত্রীদের ঝটকা, আচমকাই প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি বন্ধের ঘোষণা রেলের! কারণ কী?
এদিকে তাঁকে দলে স্বাগত জানাতে গিয়ে ভুপেন্দ্র যাদব বলেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরাম শুধুমাত্র কোনও গান নয়, বরং ভারতের জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক প্রতীক। তাঁর পরিবারের সদস্যকে আমাদের দলে পাওয়া সত্যিই গর্বের বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তাঁর বিজেপিতে যোগদান যে গেরুয়া শিবিরের সাংস্কৃতিক এবং আবেগের স্তরে বার্তা দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি বাঙালির ঐতিহ্য, সাহিত্য ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে সামনে এনেই এবার বৃহত্তম রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে।












