‘আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট!’ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

Published:

Chandrima Bhattacharya

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ, সোমবার, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকে শেষ দফায় অর্থাৎ সকাল ১১টা ৪৫ থেকে ১২টার মধ্যে ডাকা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress)। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং রাজ্যের পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার। কিন্তু সেই বৈঠকে ফের জ্ঞানেশ কুমারের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)।

মহিলা ভোটারদের ‘টার্গেট’ করার অভিযোগ

বৈঠক শেষে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কমিশনকে বলেছি, বহুবার আপনাদের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু আপনারা সেই পথে হাঁটছেন না। প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফর্ম ৬ জমা পড়েছে ৬ লক্ষের বেশি, অথচ নতুন করে নাম যোগ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ। অন্যদিকে প্রায় ৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। আগে তালিকায় মহিলাদের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন তা কমে যাচ্ছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে মহিলাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।” এসবের পরেই নাকি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপর রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

চন্দ্রিমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার নির্বাচন কমিশনারের

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, SIR এর বিষয়গুলি তুলে ধরতে গেলেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে এবং তাঁদের আর কিছু করার নেই। তিনি বলেন, “আমরা কথা বলতে গেলেই কমিশনার বলছে সুপ্রিম কোর্টে গেছেন, এখন কিছু করার নেই। তারপরই আমাকে বলছে, ডোন্ট শাউট। আমার গলার জোর আছে, তাই বলেছি। আমি তো ওঁকে অপমান করার জন্য চিৎকার করিনি। আমি একজন মহিলা, আমাকে এভাবে বলা হচ্ছে। এটা কি ঠিক? সুপ্রিম কোর্টে গেছি, ঠিকই করেছি। কিন্তু কেন ভোটারদের নাম নেই, সেই প্রশ্নের উত্তর তো দিতে হবে।”

আরও পড়ুন: নির্বাচন হোক ২ দফায়, কমিশনের কাছে আর কী কী দাবি জানাল বিজেপি?

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “আলোচনা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, মেজাজ হারিয়ে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমি বলেছি, আঙুল নীচে নামিয়ে কথা বলুন।” এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই অভিযোগ তুলেছিলেন। রীতিমত অহঙ্কারি বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন কমিশনকে।

google button