বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এ বাংলায় (West Bengal) কমবেশি 700 র বেশি রেল (Indian Railways) স্টেশন রয়েছে। যে গুলির প্রত্যেকটি একে অপরের থেকে আলাদা। তবে পশ্চিমবঙ্গের বুকেই এমন এক স্টেশন রয়েছে যেখানে থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করলেও কোনও নাম নেই সেই স্টেশনের। এক কথায় যাকে বলা যায় নামহীন বা অনামিকা স্টেশন। ভারতীয় রেলের অধীনস্থ এই স্টেশনের নামকরণ না হওয়ার কারণে স্টেশনটিতে প্রতিদিন অজস্র ট্রেন দাঁড়ালেও এই স্টেশনের নাম দেখায় না Where Is My Train অ্যাপেও! কোথায় রয়েছে সেই স্টেশন?
বাংলাতেই রয়েছে নামহীন রেল স্টেশন
ভারতীয় রেলের হাজার হাজার রেল স্টেশনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামহীন রেলস্টেশনটি। জানলে অবাক হবেন, এই স্টেশনই দেশের একমাত্র স্টেশন যার নামকরণ আজ পর্যন্ত হয়নি। নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে হচ্ছে কোথায় রয়েছে এমন স্টেশন? বাংলা তথা ভারতের একমাত্র নামহীন রেল স্টেশনটি রয়েছে বর্ধমান জেলার জেলা সদর থেকে অন্তত 35 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রায়না নামক একটি গ্রামে।
সালটা 2008। সে বছর এই গ্রামেই তৈরি হয়েছিল রেল স্টেশনটি। জানা যায়, ভারতীয় রেলের তরফে স্টেশনটি তৈরির পর এর নামকরণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হলে রায়না এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম রায়নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে স্টেশনের নামকরণ নিয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত এই স্টেশনের নামকরণ করা যায়নি।
জানা যায়, 2008 এ রায়নগর নামের একটি স্টেশন ছিল। পরবর্তীতে রায়নগরের বাসিন্দারা বাঁকুড়া থেকে মসাগ্রাম লাইনের নবনির্মিত স্টেশনটির নাম রায়নগর রাখার পরামর্শ দেন। তাতে ঘোর আপত্তি জানান রায়নার বাসিন্দারা। আসলে স্টেশনটি রায়না গ্রামের আওতায় পড়ায় সেই স্টেশনের নাম রায়না হওয়া উচিত বলেই দাবি করে বসেন রায়নার বাসিন্দারা। তাতে বাধা দেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের সকলেই। ফলে দুই পক্ষের তীব্র মতপার্থক্যের কারণে এই স্টেশনের নাম রাখা সম্ভব হয়নি। যার কারণে আজও এই স্টেশনে গেলে হলুদ সাইনবোর্ডে দেখা যাবে না কোনও নাম। যাত্রীরা সেটা জেনেই এই নামহীন স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসেন। টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার সময়ও যাত্রীরা বলেন রায়না গ্রামের স্টেশনের টিকিট দিতে।
অবশ্যই পড়ুন: ভক্তদের আশায় জল ঢাললেন KKR তারকা!
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, রবিবার দিন অর্থাৎ ছুটির দিনটিতে এই স্টেশনে বাজে না ট্রেনের বাঁশি। অর্থাৎ এই দিন একেবারে নিরব থাকে স্টেশনটি। যাতায়াত করেন না যাত্রীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই স্টেশনে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে টিকিট কাটার ব্যবস্থা না থাকায় রবিবার দিন স্টেশন মাস্টার বর্ধমান শহরে যান টিকিট কিনতে। সে কারণেই এই দিন এই স্টেশনের যাত্রী পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। বলে রাখি, স্টেশনের নির্দিষ্ট কোনও নাম না থাকায় টিকিট ছাপানো হয় রায়নগর নামে। একই সাথে মোবাইল অ্যাপে বাঁকুড়া মসাগ্রাম লাইনে রায়নগর স্টেশনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে হিসেব করে দেখতে গেলে, এই স্টেশন অনামিকা স্টেশন হওয়ায় আদতে এর নাম নেই অ্যাপে।












