সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি (Success Story) থাকলে সবকিছুই যে সম্ভব তা আরও একবার প্রমাণ করলেন শ্বেতা ভারতী (Shweta Bharti)। প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা চাকরির পরেও নিজের স্বপ্নকে কখনও অধরা হতে দেননি তিনি। অফিসের কাজ শেষ করে রাত জেগে পড়াশোনা করেই তিনি কঠিন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। হ্যাঁ, ২০২১ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৩৫৬ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি, যা তাঁর আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করে। তাঁর এই যাত্রা আজকের দিনে বহু তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
ছোট শহর থেকেই দেখেন স্বপ্ন
এনডিটিভির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, শ্বেতা বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা। স্কুলের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছিলেন পাটনাতে। তারপর ভাগলপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। আর পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ওই Wipro-তে চাকরি শুরু করেন। চাকরি করার সময়ই তিনি ভাবেন যে, যে করে হোক ইউপিএসসি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হবে। সেই সূত্রেই তাঁর প্রস্তুতি নেওয়া।
এই ট্রিকেই সেলফ স্টাডি করে IAS
কিন্তু অনেকেই ইউপিএসসি প্রস্তুতির জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। তবে পারিবারিক দায়িত্বের কারণে শ্বেতা সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। বরং তিনি ঠিক করেন, চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি নেবেন। প্রতিদিন দিনের বেলায় অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা করতেন। আর কঠোর রুটিন মেনেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন তিনি। এমনকি মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন: ৪টি বন্দে ভারতের সময়সূচি বদল করল রেল, প্রভাবিত হবেন যাত্রীরা! দেখুন নতুন টাইম
ইউপিএসসি-র আগে তিনি বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষাও চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে তিনি ৬৫ র্যাঙ্ক অর্জন করেন। এমনকি তিনি ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসের পদে নিযুক্ত হন। সেই চাকরি পাওয়ার পরও তিনি ইউপিএসসি প্রস্তুতি থামাননি। বরং, আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান। অবশেষে ২০২১ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়েই তিনি আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। বর্তমানে তিনি ভাগলপুরে অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এক কথায়, তাঁর এই প্রচেষ্টা আর সাফল্য যে আজকের দিনে তরুণ-তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।












