জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১৯৩ সাংসদের স্বাক্ষর, সরানো সম্ভব নির্বাচন কমিশনারকে?

Published:

CEC Gyanesh Kumar

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। আর এমন পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) সরাতে উঠে পড়ে লেগেছে বিরোধীরা। জানা গিয়েছে, আজ সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করলেন ইন্ডিয়া জোটের বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠছে তবে কি বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিদায় ঘন্টা বাজবে জ্ঞানেশ কুমারের।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নোটিস বিরোধীদের

সূত্রের খবর, প্রস্তাবে মোট ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ সই করেছেন। তাঁদের মধ্যে লোকসভার সাংসদ রয়েছেন ১৩০ জন। রাজ্যসভার সাংসদ রয়েছেন ৬৩ জন। আর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাংসদদের অধিকাংশ ‘ইন্ডিয়া’-র সদস্য। তবে ওই বিরোধী শিবিরের অংশ না হয়েও আম আদমি পার্টির সাংসদেরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে সই করেছেন। বেশ কয়েক জন নির্দল সাংসদও নোটিসে সই করেছেন। অবাক করা বিষয় হল সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম এই প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সংসদের দুই কক্ষে প্রস্তাব জমা পড়ল।

উঠে এসেছে একাধিক অভিযোগ!

শুরু থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কিছু অবিজেপিশাসিত রাজ্যে একাধিক বার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাই এবার তাঁকে অপসারণের জন্য সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট বা বৈষম্যমূলক আচরণ। এছাড়া, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যার ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করারও অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

সরানো সম্ভব নির্বাচন কমিশনারকে?

উল্লেখ্য, দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অপসারণের পদ্ধতি সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের মতোই। আসলে ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে যে কারণে ও যে প্রক্রিয়ায় সরানো যায়, সেই একই প্রক্রিয়ায় কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতির অর্ডার দরকার। এছাড়াও বিচারপতিকে সরাতে হলে সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে ভোটাভুটি করতে হবে। তারপরই রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নেন। আজ সেই মতো নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার এর ফলাফল কী হয়।

🔮
মাত্র ২১ টাকায় নিজেরবাংলা কুষ্ঠি তৈরি করুন
দেখুন →
google button