সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এই মুদ্রাস্ফীতির বাজারে জীবনধারণ করা যেন মুশকিল হয়ে পড়ছে। সেখানে আবার বহু মানুষ মাত্র ১০০০ টাকার পেনশন (Pension) পাচ্ছেন। এই টাকা এখনকার সময়ে কিছুই না। একটা ওষুধ কিনতে বা বাজার করতে গিয়ে একদিনেই খরচ হয়ে যায়। এহেন পরিস্থিতিতে EPFO-র কাছে ন্যূনতম পেনশন ৭৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন পেনশন প্রাপকরা। কিন্তু সরকারের তরফে এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গ ফের একবার সংসদে উঠেছে।
পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ কমিটির
সম্প্রতি, একটি সংসদীয় কমিটি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPF) ব্যবস্থার অধীনে ১,০০০ টাকার ন্যূনতম মাসিক পেনশনকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছে। সেইসঙ্গে এই টাকার পরিমাণ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ইপিএফ-এর ন্যূনতম পেনশন অবিলম্বে বৃদ্ধির সুপারিশ করে কমিটি স্পষ্টভাবে বলেছে যে, বর্তমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা উচিত।
পেনশন বাড়াবে সরকার?
সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশ ইপিএফ-এর অধীনে ন্যূনতম মাসিক ৭,৫০০ টাকা পেনশনের জন্য কর্মচারী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সূত্রের খবর, নাকি সরকার ইতিমধ্যেই পেনশন বাড়িয়ে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। কমিটির মতে, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও ১,০০০ টাকার ন্যূনতম পেনশন দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল সুবিধাভোগীদের আর্থিক অসুবিধার কথা বিবেচনা করে, পেনশনভোগীদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য অসংখ্য অনুরোধ করা হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। অভিযোগ, সরকার এই বিষয়ে কোনওরকম কর্নপাত করেনি।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাস গড়লেন TTE, বিনা টিকিটে যাত্রীদের ধরে একদিনেই ২.৫৭ লাখ আদায় রেলের
কমিটির মতে, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে বিদ্যমান ইপিএফ সদস্যদের জন্য ১.১৬ শতাংশ যোগদান এবং প্রতি মাসে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা পেনশন নিশ্চিত করার জন্য বাজেট বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর জন্য, কমিটি শ্রম মন্ত্রককে বাজেট সহায়তা বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে, যাতে পেনশনভোগীরা আজকের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি যুক্তিসঙ্গত ন্যূনতম পেনশন পেতে পারেন।












