সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে এমনিতেই এলপিজি সংকটের (LPG Crisis) মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বুকিং করলেও মিলছে না সিলিন্ডার। এমনকি কোথাও কোথাও বুকিং করতেও সমস্যা হচ্ছে, আর দামও বেড়েছে অনেকটাই। আর এই সবকিছুর পিছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। হরমুজে আটকে একের পর এক এলপিজিবাহী জাহাজ। বিশেষ করে গার্হস্থ সিলিন্ডারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বাণিজ্যিক সিলেন্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ লাইন দিয়েও মিলছে না গ্যাস। একেবারে সরবরাহ নেই বললেই চলে। তার মধ্যেই আসলো বিরাট সুখবর। এবার দেশে চালু হল এলপিজি এটিএম পরিষেবা (LPG ATM Service), যেখানে এটিএম-র মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ গ্যাস নিতে পারবে।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি, দেশে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্র সরকার একের পর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে এবার তারই মধ্যে হরিয়ানার গুরুগ্রামে চালু হল এই নতুন পরিষেবা। এটিই দেশের মধ্যে প্রথম। জানা যাচ্ছে, বিপিসিএল এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পে সাধারণ মানুষ অনেকটাই স্বস্তি পাবে। কারণ, দিনের পর দিন যেভাবে এলপিজি সংকট দেখা যাচ্ছে, তা থেকে রেহায় দেবে এই পরিষেবা। বিপিসিএল এর উদ্যোগে গুরগ্রামে শুরু হওয়া এই এলপিজি এটিএম পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই গ্যাস ভরে দিতে পারবে। কিন্তু কীভাবে কাজ করবে এই পরিষেবা?
কী এই এলপিজি এটিএম পরিষেবা?
রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এই এটিএম ব্যবহার করতে গেলে ব্যবহারকারীদের আগে থেকে এটিএম-এ এসে নিজেদেরকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর নিজের মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। সেই ওটিপি দিলেই গ্যাস রিফিল হবে। তার আগে সিলিন্ডারে থাকা বারকোড বা কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই এলপিজি পরিষেবা গুরুগ্রামের সোহানা সেক্টর ৩৩ এর আবাসিক বিল্ডিং-এ বসানো হয়েছে। আর সেখানে অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই নিজেদের সিলিন্ডার রিফিল করে নিতে পারছে। এমনকি ২৪ ঘণ্টা এই পরিষেবা চালু থাকবে বলে কোম্পানির তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের রাস লাফানে ইরানের হামলা, সম্পূর্ণ বন্ধ গ্যাস সরবরাহ! ফের LPG সঙ্কটে ভারত?
এদিকে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এখানে পেমেন্টের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যম। হ্যাঁ, ইউপিআই থেকে শুরু করে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা নেট ব্যাঙ্কিং এর মাধ্যমেই এই এটিএম-এ পেমেন্ট করতে পারবেন। তবে আপনাকে সেখানে একটি খালি সিলিন্ডার রাখতে হবে। তারপর সেই এটিএম আপনাকে ভর্তি সিলিন্ডার ফেরত দেবে। উল্লেখ করার বিষয় যে, এখানে লোহার সিলিন্ডার ব্যবহার করা হবে না। শুধুমাত্র কম্পোজিট সিলিন্ডার দেওয়া হবে, যেগুলি অন্যান্য সিলিন্ডারের তুলনায় হালকা। আর এই সিলিন্ডারের ওজন মাত্র ১৫ কেজি, তাও গ্যাসসহ। আর একটি এটিএম-এ দশটি সিলিন্ডার থাকবে। যখন সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাবে, তখন সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী কোনও গ্যাস এজেন্সি থেকে এটিএম এলার্ট পাঠাবে। তারপর তারা আবার দ্রুত মেশিন রিফিল করবে। এতে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাদের সিলিন্ডার ভর্তি করে নিতে পারবে।












