রেকর্ড পতন, ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ঠেকল ভারতীয় রুপি

Published:

Indian Rupee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গেলে ভারতীয় রুপি (Indian Rupee)। সোমবার বাজার খুলতেই রুপির ইতিহাসে একেবারে বিপর্যয় নেমে এল। আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ আর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম সর্বনিম্ন স্তর ৯৬.৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকল। গত সপ্তাহে ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সোমবার লেনদেন শুরু হতে আবারও ০.২% পতন ভারতীয় টাকার।

রেকর্ড পতন ভারতীয় টাকার

আসলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার রক্তক্ষরণ কোনও ভাবেই যেন থামানো যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ৯৬ টাকার গণ্ডি পার করার পর চলতি সপ্তাহে আরও তলানিতে ঠেকে তা ৯৪.৩০ টাকায় গিয়ে পৌঁছল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতীয়র টাকা প্রায় ৫.৫% পতন হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য যে বড়সড় চিন্তার বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু বাজার বিশেষজ্ঞরা সোমবার এই রেকর্ড পতনের পিছনে বিশেষ করে তিনটি কারণকে দায়ী করছে—

প্রথমত, সংযুক্ত আরব আমিশাহীর একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার থেকে ১১১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আর ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল যেহেতু আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লে ভারতীয় টাকার উপরেই চাপ পড়ে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আগামী আলোচনাগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। আর এরকম আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ডলারের চাহিদা আরও বাড়ছে এবং টাকার দাম তলানিতে ঠেকছে।

তৃতীয়ত, ভারতের প্রত্যাশিত বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পক্ষ থেকে পুঁজি তুলে নেওয়ার কারণে ভারতীয় বাজার দিনের পর দিন ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে টাকার উপরেই।

আরও পড়ুন: রাজধানীর পর প্যাসেঞ্জার ট্রেন আগুন, দাউ দাউ করে জ্বলে ঝলসে গেল গোটা কোচ

চিন্তা বাড়ছে আমজনতার

কিন্তু টাকার এই রেকর্ড পতনের অর্থ হল—বিদেশ থেকে যে কোনও পণ্য বা কাঁচামাল আমদানি করতে এবার বেশি পরিমাণে খরচ করতে হবে ভারতকে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। ইতিমধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে বাড়ছে জিনিসের দাম। আর বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়বে। যার ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেকটাই আকাশছোঁয়া হবে বলেই মত ওয়াকিবাল মহলের।

google button