প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিকে ঘিরে ঘটেই চলেছে একের পর হিংসামূলক ঘটনা। এদিকে প্রশাসনিক ক্ষমতার রদবদল হতেই খবরের শিরোনামে উঠে এল ২০২১ সালের নির্বাচনের পর (2021 Post Poll Violence) বিজেপি সহ বিরোধী দলের কর্মীদের উপর অকথ্য অত্যাচারের কাহিনী। জানা গিয়েছে এবার সেই সব হামলার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার। পুনরায় ৫৯টি বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলা খোলা হয়েছে।
দায়ের হয়েছে ১৮১টি FIR
২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পরে রাজ্য জুড়ে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে’ খুন, ধর্ষণ এবং ধর্ষণের অভিযোগ উঠে এসেছিল। অর্ধশতাধিক মানুষ রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। প্রায় ২০০০টি ‘ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস’ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছিল সে সময়। এবার প্রশাসনিক পালাবদল হতেই সেই ঘটনা নিয়ে পুনরায় তদারকিতে বসল বিজেপি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৪৫৮টি নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, নয়া এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে ১৮১টি এবং ৫৯টি বন্ধ হয়ে যাওয়া কেস খোলা হয়েছে।
কড়া অ্যাকশন নিলেন শুভেন্দু
ভারতীয় জনতা পার্টির দাবি, ২০২১ এ ভোটের পর প্রায় ৩০০-এর বেশি কর্মীকে খুন করা হয়েছিল। তৃণমূলের ভয়ে ঘর ছাড়া ছিলেন হাজার হাজার কর্মী। পাশাপাশি মারধর এবং বাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে অসংখ্য। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভন্দু অধিকারীও এই বিষয়টা নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরই সেই সময়ের আক্রমণের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিলেন শুভেন্দু। এছাড়াও তারপর থেকেই তোলাবাজি, হিংসা এবং জমি দখলের মতো একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। এদিকে ২০২৬ সালের ভোটের পর তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণ হচ্ছে বলে দাবি করলেন সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: আয়ুষ্মান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, প্রকাশ্যে ৭ দিনে বিজেপি সরকারের ‘অ্যাকশন রিপোর্ট’
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে মারধর এবং ঘর বাড়ি ভাঙ্গা এই ঘটনাগুলির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘নীরব দর্শক’ হয়ে ছিল। এমনকি বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের গণনা কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান। অন্যদিকে বিধানসভার স্পিকারের শপথ গ্রহণের দিন একই কথা বলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ভোট পরবর্তী সময় অনেক তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। তাদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক নয়া সরকার।










