কেড়ে নেওয়া হল লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকার, কী এই ট্রান্সজেন্ডার সংশোধনী বিল?

Published:

Transgender Amendment Bill

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিরোধীদের প্রবল আপত্তি ও সমাজ কর্মীদের উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে এবার সংসদে পেশ হয়েছে বিতর্কিত রূপান্তরকামী ব্যক্তিবর্গের সংশোধনী বিল ২০২৬ (Transgender Amendment Bill)। বুধবার রাজ্যসভার ধ্বনিভোটে বিলটি পাস হয়েছে। আর লোকসভায় এই বিল আগেই পাস হয়েছিল। এখন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সই করলেই এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে বলে খবর। কিন্তু নতুন এই সংশোধনী রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেবে বলেই দাবি করা হচ্ছে। কী এই বিল? জানুন।

কী এই সংশোধনী বিল?

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের পুরনো আইনে বলা ছিল যে, একজন নাগরিক নিজেই নিজের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ করতে পারবে। তবে মোদী সরকার নতুন যে বিল পেশ করেছে, সেখানে সেই অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। এই বিলের প্রধান বিতর্কিত দিকগুলি হল—

১) এতদিন যাবৎ রূপান্তরকামী ট্রান্সজেন্ডার বলতে একটি বিপুল জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হতো। কিন্তু নতুন বিলে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র কিন্নর, হিজরা, আরাবনী বা শারীরিকভাবে যারা উভলিঙ্গ তারাই একমাত্র এই আইনের সুবিধা পাবে। আর যারা নিজেদের ইচ্ছেমতো লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ করেন, তাদের এই আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

২) আগে নিজের অনুভূতির ভিত্তিতে লিঙ্গ পরিচয় সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা যেত। তবে এখন জেলাসচিব তখনই সার্টিফিকেট দেবেন, যখন সরকারি মেডিকেল বোর্ড সেই আবেদনে সবুজ সংকেত দেবে। অর্থাৎ নিজের পরিচয় নির্ধারণে এখন থেকে চিকিৎসকদের উপর নির্ভর করতে হবে।

৩) যদি কেউ লিঙ্গ পরিবর্তন বা সেক্স রিঅ্যাসাইনমেন্ট সার্জারি করান, সেক্ষেত্রে তাকে রিভাইসড সার্টিফিকেট দিতে হবে। আর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে সেই অস্ত্রোপচারের সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য জেলা শাসককে জানাতে হবে।

৪) জোর করে কাউকে রূপান্তরকামী পরিচয় গ্রহণ করতে বাধ্য করা হলে বা প্রতারণা করলে ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রে এই অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ধার করে ক্রিকেট শিখিয়েছেন বাবা, গরিব ট্রাকচালকের ছেলেকে কোটিপতি বানাল RCB

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মিত্র এই বিলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। নাগরিকদের মর্যাদা এবং লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকারের উপর এবার বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। রূপান্তরকামী সংগঠনগুলির সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বিলটিকে অসাংবিধানিক এবং সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ সালের নালসা রায়ের পরিপন্থী বলে দাবি করা হচ্ছে।

google button