জমা জলের অভিযোগ করায় সরকারি প্রকল্প থেকে নাম কাটার হুমকি ভবানীপুরে!

Published:

Firhad Hakim

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই, তাই বৃষ্টি দুর্যোগের মধ্যেও ভোট প্রচারে মেতেছেন শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভবানীপুর (Bhowanipore) কেন্দ্রটিকে ‘পাখির চোখ’ করেছে রাজ্যের শাসকদল। কারণ সেখানে এবার প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর তারই বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই সেখানকার ভোট প্রচার যেন এক অন্য মুহূর্ত তৈরি করেছে। তবে আজ সেখানে প্রচার চলাকালীন ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।

হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ভবানীপুর

গত রবিবার চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যা একপ্রকার হাইভোল্টেজ বৈঠকই বলা যায়। সেখানে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী করার টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন সেনাপতি অভিষেক। আর সেই লক্ষ্যমাত্রাকেই এখন নিজের ব্যক্তিগত ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আর তা করতে গিয়েই ক্ষোভ উগরে দেন এলাকার বাসিন্দারা।

বিক্ষোভের মুখে ফিরহাদ হাকিম

রিপোর্ট মোতাবেক, ভোট প্রচারের কাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যস্ত থাকার কারণে নিজের কেন্দ্রর দায়িত্ব দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থনে শনিবার সকাল থেকে চেতলায় জনসংযোগ শুরু করেন ফিরহাদ হাকিম। প্রচার চলাকালীন জল নিকাশি নিয়ে অভিযোগ জানান স্থানীয়রা। এরপর ফিরহাদ হাকিম চলে যাওয়ার পরই, অভিযোগকারীদের ওপরে কার্যত চড়াও হন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। জোর করে ঘরে ঢুকেই শাসানি দেওয়ার পাশাপাশি ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প থেকে নাম কেটে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। আর তারপরই উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়।

স্থানীয়দের বিস্ফোরক অভিযোগ

অভিযোগকারীরা হরেকৃষ্ণ দে সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন স্থানীয় মহিলারা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক অভিযোগকারী মহিলা জানান, “আমি বলেছিলাম দাদা, আমার বাড়িতে দীর্ঘদিন নোংরা একটা জল জমে থাকে। আমাদের সমস্যা এখানে। এটুকুই বলা হয়েছে, আর কিছু নয়। তবে তারপর অনেকে বলছে, কেন বলছ মিডিয়াতে। তৃণমূলের লোকেরা বলেছে। আমরা তো কোনও খারাপ কথা বলিনি। কারোর বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি।” তবে তৃণমূলের তরফ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: লাগবে ৯০ মিনিট কম সময়! হাওড়ার ট্রেন সহ ৩৫টি এক্সপ্রেসের স্পিড বাড়াচ্ছে রেল

ভোট প্রচারের সময় আবার অন্য কথা বলছে বাকি বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ‘ সব সুযোগ সুবিধা এরা নিয়েছে, আমাদের এলাকায় কোনও অসুবিধা নেই। আমাদের ববি দা যা করে দিয়েছে, জল, কল, আলো সবকিছু করেছে। এরা হল সব বিজেপির লোক। ফিরহাদ হাকিমকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” এমনকি হরেকৃষ্ণ দে-র দাবি, শাসানি নয়, শুধুমাত্র কথা বলতে অভিযোগকারীদের কাছে যাওয়া হয়েছিল।

google button