সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল আজ নবান্নে। তবে বাংলায় মহিলাদের উপর হওয়া বিভিন্ন অপরাধ এবং অত্যাচারের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে এবার বিরাট পদক্ষেপ রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। বিগত কয়েক বছর ধরে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য এবার বিশেষ কমিশন গঠন করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেই কমিশনের মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রাজ্যের দক্ষ জনপ্রিয় আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে (Damayanti Sen)।
কেন গঠন করা হল এই বিশেষ কমিশন?
আসলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বেশ কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের উপর বিশেষ করে তপশিলি জাতি বা উপজাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের উপর ছোটবড় অপরাধের তদন্ত করবে এই কমিশন। মন্ত্রীসভার অনুমোদন মেলার পর ইতিমধ্যেই কমিশনের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আর আগামী ১ জুন থেকে এই কমিশন পূর্ণমাত্রায় তাদের অফিসিয়াল কাজ শুরু করবে বলে খবর।
যেমনটা জানানো হয়েছে, অভিযোগকারীদের সুবিধার্থে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে এবার একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, অভিযোগ জানানোর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি ওয়েবসাইট বা পোর্টাল, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও ইমেইল চালু করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, শুধুমাত্র নতুন অপরাধ নয়, বরং অতীতে ধামাচাপা পড়ে থাকা বা ঝুলে থাকা নারী নির্যাতনের পুরনো মামলাগুলির ফাইল খোলা হবে। যদিও কমিশনের সদস্যরা সরাসরি বিভিন্ন জেলা এবং থানা স্তরে স্পট ভিজিট করবেন। আর নির্যাতিতাদের বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি প্রয়োজনে থানা স্তরে জন শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া এসসি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ কমিশনের আগের সুপারিশগুলি প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: জুন থেকেই যুবশক্তি ভরসা কার্ডে বেকারদের ৩০০০ টাকা! কীভাবে আবেদন করবেন?
তবে তদন্তের রূপরেখা স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত সংবেদনশীল মামলার তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট কিংবা কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আওতায় রয়েছে, সেগুলিকে এই কমিশনের আওতায় আনা হবে না। কিন্তু এর বাইরে থাকা বাকি সমস্ত রাজ্যস্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।










