প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রশাসনিক ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কারে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। আর এবার রাজ্যে গবাদি পশু জবাই নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। এমতাবস্থায় দেশজুড়ে কসাইখানা গুলোতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দেওয়া পশু সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা বাংলাতেও কঠোরভাবে বলবৎ করার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।
জনস্বার্থ মামলা দায়ের
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়ে যে, কসাইখানায় ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও গরুকে জবাই করা যাবে না। এবার এই নিয়মটি যাতে পশ্চিমবঙ্গে কঠোরভাবে পালন করা হয়, তাই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। জানা গিয়েছে মামলার আবেদনকারী বিকে শর্মার আইনজীবী মেঘনাথ দত্ত এই বিষয়ে দ্বারস্থ হয়েছেন হাইকোর্টে। আজ, সোমবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে।
কবে হবে শুনানি?
আবেদনকারী আইনজীবীর বক্তব্য, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের বহু জায়গায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে কম বয়সী গবাদি পশু জবাই করা হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে এই বেআইনি কাজ রুখতেই আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। এদিকে আবেদন জানানো হলেও এখনও চূড়ান্ত শুনানি সম্ভব হয়নি। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আজ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বসেনি। তাই নিয়ম মেনে এই মামলাটি স্থানান্তরিত হবে নিয়মিত বেঞ্চে। তবে সব ঠিক থাকলে আগামীকাল মঙ্গলবারই হাইকোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভাঙা হবে যুবভারতীর সামনে থাকা সেই বিতর্কিত মূর্তি, এর ইতিহাস জানেন?
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে, পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কঠোর ভাবে পালনের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। আর সেই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের ২০১৮ সালের ৬ অগস্টের রায় এবং সে সংক্রান্ত ২০২২ সালের ৮ জুনের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এটি প্রকাশ করা হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে গরু, মহিষ বা বলদ-সহ কোনও পশুই আর যত্রতত্ ‘জবাই’ করা যাবে না। পশুবধের এই প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ‘কসাইখানাতেই’ সম্পন্ন করা হবে।










