সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: লটারির টিকিট না কেটেও রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গিয়েছিলেন মহিলা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এক লহমায় ঢুকে পড়ল ১০ কোটি টাকা! সাধারণ মানুষের কাছে নিশ্চয়ই এরকম ঘটনায় খুশিতে আত্মহারা হওয়া স্বাভাবিক। তবে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মইনপুরী জেলার এই সাধারণ কৃষক পরিবারের গৃহবধু দেখালেন অনন্য দৃষ্টান্ত। বিপুল অর্থের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি একটি টাকাও স্পর্শ না করে সততার নজির গড়লেন। আর তাঁর এই কৃতিত্বে সকলে কুর্নিশ জানাচ্ছে।
এটিএম স্ক্রিনে টাকা দেখেই চক্ষু চড়কগাছ
আসলে মইনপুরী জেলার দেবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রীতা দেবী। তাঁর স্বামী পরসবন বাহেলিয়া পেশায় একজন কৃষক। জানা যায়, নবরাত্রীর অষ্টমীর দিন তিনি কিছু টাকা তোলার জন্য স্থানীয় ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার কারণে এটিএম-ই তাঁর শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এটিএম কাউন্টারে গিয়ে নিজের ব্যালেন্স চেক করতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, তাঁর অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৯,৯৯,৪৯,৫৮৮ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ১০ কোটি টাকা।
প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন যে হয়তো এটিএম মেশিনের কোনও ভুল। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অন্য আরও একটি এটিএম-এ গিয়ে আবারো ব্যালেন্স চেক করেছিলেন তিনি। আর সেখানেও সেই একই অংক দেখে তিনি তাৎক্ষণিক মোবাইল স্ক্রিনে ভিডিও রেকর্ড করে রাখেন। আর বর্তমানে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
বিপুল অর্থ দেখেও প্রলোভন দেখালেন না রীতা দেবী
প্রসঙ্গত, অভাবের সংসার হওয়া সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকার লোভ রীতাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি বাড়ি ফিরে তৎক্ষণাৎ পরিবারের সদস্যদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই টাকা তাদের নয়। এমনকি যতক্ষণ না পর্যন্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরিষ্কার করছে ততক্ষণ এখান থেকে একটি টাকাও তোলা হবে না। তাঁর এই সিদ্ধান্তে গ্রামবাসী থেকে শুরু করে নেট নাগরিকরা হতবাক। তবে ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। এরপর রীতা দেবী এবং তাঁর পরিবার ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার শাখায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। করিমগঞ্জ শাখার ম্যানেজার নিশিকান্ত পান্ডে তাদেরকে জানান যে, এটি সম্ভবত কোনও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ভুলবশত অন্য কোনও লেনদেন। ব্যাঙ্ক খোলার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধান করা হবে।
আরও পড়ুন: এপ্রিলেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের বাড়ছে মহার্ঘ ভাতা, পেনশন? অষ্টম পে কমিশন নিয়ে বড় আপডেট
সামান্য টাকার লোভ যেখানে সাধারণ মানুষকে কতটা নিচে নামিয়ে দিতে পারে, সেখানে সাধারণ এই গৃহবধূর সততা দেখে সকলেই মুগ্ধ। এমনকি নেটপাড়ায় তাঁকে সকলেই ধন্যি ধন্যি করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরাও তাঁকে কুর্নিশ জানাচ্ছে। আর অনেকেই বলছেন, প্রকৃত শিক্ষা ডিগ্রিতে নয়, বরং মানসিকতার মধ্যেই থাকে। তার জলজ্যান্ত প্রমান দিলেন রীতা দেবী।












