“দিদির কাছে কান ভাঙিয়েছে, ন্যাড়া হয়ে হুগলি ঘুরব!” রচনাকে নিয়ে বিস্ফোরণ অসিতের

Published:

Asit Mazumdar

সৌভিক মুখার্জী, হুগলি: ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হতেই গোটা রাজ্যের রাজনীতিতে দলবদলের থেকে বেশি চর্চায় উঠে আসছে তৃণমূলের অভ্যন্তরের কোন্দল। বিশেষ করে হুগলির চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের (Asit Mazumdar) বিস্ফোরক মন্তব্য এখন আলোচনার শিরোনামে। কারণ, সেখানে এখন ভোটের টিকিট পেয়েছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। আর নিজের জেতা আসনে টিকিট না পেয়ে এবার সরাসরি অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Rachna Banerjee) তিনি কাঠগড়ায় তুলে ফেললেন। কী বললেন তিনি?

রচনার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

রবিবার চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের সমর্থনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন। আর ঠিক সেই সময় এই চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন অসিত মজুমদার। সেখানেই তিনি একেবারে ক্ষোভ উগড়ে দেন রচনা বন্দোপাধ্যায়ের উপরে। তিনি দাবি করেন যে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে ভুল বুঝিয়ে কান ভাঙিয়েছেন। সেই কারণেই তিনি ভোটের টিকিট পাননি। এমনকি তিনবারের জেতা আসনেই তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি।

এদিকে রচনাকে আক্রমণ করতে গিয়ে কড়া কড়া শব্দ ব্যবহার করেন অসিত। তিনি বলেন যে, কে রচনা? তিন দিনের যোগী। এরা দলে থাকলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই একেবারে দল শেষ হয়ে যাবে। আমরা লড়াই করার লোক। এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর স্নো-পাউডার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করি না। হিম্মৎ থাকলে ও নির্দল হয়ে দাঁড়াক। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ওর থেকে দশগুণ বেশি ভোট না পেলে আমি ন্যাড়া হয়ে সারা হুগলি জেলা ঘুরবো। এই অঞ্চলের মানুষ ওকে পছন্দই করে না। অসিতের দাবি, রচনা যার সঙ্গে প্রচারে যাবেন, তাঁরই একেবারে ভরাডুবি হবে। রচনার উপস্থিতিতে দেবাংশুও জিততে পারবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রচনার পাল্টা জবাব

এদিকে অসিত মজুমদারের আক্রমণকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতেই তিনি বলেন, এটা হাস্যকর বিষয়। উনি যা ইচ্ছা বলতে পারেন। তবে আমার কাছে এর কোনও উত্তর নেই। উনি অভিজ্ঞ মানুষ। ওনাকে বোকা বোকা কথা বলতে বারণ করুন। এগুলি ওনার মুখে মানায় না। উনি এখন পাস্ট। ওনাকে নিয়ে আলোচনা করবেন না। আসন্ন কাল নিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন। এমনকি তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন যে, বিধায়ক আমাদের সিনিয়র মানুষ। তিনবারের বিধায়ক হওয়ার কারণে তাঁর মনে অভিমান হতেই পারে। আমি ওনার সঙ্গে বসে সমস্ত কিছুই মিটিয়ে নেব। আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে, নিজেদের মধ্যে নয়।

আরও পড়ুন: বাথরুমে পড়ে গিয়ে মৃত্যু পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনাপ্রধানের

আবার অন্যদিকে শাসক দলের এই কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে বিজেপি কটাক্ষ করতে ছাড়েনই। হুগলি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন যে, সবটাই ওদের ভাগ বাটোয়ারা আর দুর্নীতির মাশুল। বিধায়ক নিজেই দুর্নীতির কথা বলছেন। মানুষ এবার বুঝতে পারবে যে তাহলে কাদের ভোট দেবে। এদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, চুঁচুড়ার বাণীমন্দির স্কুলে স্মার্ট ক্লাস উদ্বোধন নিয়ে আগে থেকেই অসিত মজুমদার এবং রচনার মধ্যে সংঘাত ছিল। অসিতের বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষিকার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার কারণে দলের অন্দরেও তিনি ধাক্কা খেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত টিকিট না পাওয়াতে তিনি একের পরে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।

google button