সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আজ থেকে শুরু হয়ে গেল নতুন মাস। আর নতুন মাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের নিয়মও বদলে গিয়েছে। আজ ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে চাকুরীজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শ্রম আইন (New Labour Codes 2026) ১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হবে। এই পরিবর্তনগুলো শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো কর্মচারীদের হাতে পাওয়া বেতন অর্থাৎ ইন হ্যান্ড স্যালারি, গ্র্যাচুইটি, পিএফ-এ অবদান, কাজের সময় এবং তাদের অধিকারের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। চলুন সবটা জেনে নেবেন।
আজ থেকে লাগু হল নতুন শ্রম আইন
নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী, দৈনিক ৮ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে, কাজের পদ্ধতিকে আরও নমনীয় করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো কর্মীদের জন্য একটি নমনীয় কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারবে। এছাড়াও, সাপ্তাহিক কাজের সময় ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে আরও বেশি ওভারটাইম করার সুযোগ পাওয়া যাবে।
স্যালারি স্লিপে পরিবর্তন
নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী, আপনার মূল বেতন আপনার মোট সিটিসি (CTC)-এর ৫০ শতাংশ হওয়া উচিত। বর্তমানে, অনেক কোম্পানি কর সাশ্রয়ের জন্য তাদের মূল বেতন কম রাখে এবং এইচআরএ (HRA), ভ্রমণ ভাতা, এবং বিশেষ ভাতার মতো ভাতা ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। তবে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো সম্মিলিত ভাতা মোট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি বাড়াতে পারবে না।
PF এবং গ্র্যাচুইটি
পিএফ এবং গ্র্যাচুইটি আপনার মূল বেতনের উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয় । তাই যদি আপনার মূল বেতন বাড়ে, তাহলে আপনার অবসর তহবিল এবং তাতে আপনার অবদানও অটোমেটিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বেশি পিএফ কর্তন আপনার ইন হ্যান্ড স্যালারির উপর প্রভাব ফেলবে। বেশি পিএফ কর্তনের ফলে আপনার হাতে পাওয়া বেতন সামান্য কমে যেতে পারে। তবে, এটি কোম্পানির বর্তমান কাঠামোর উপরও নির্ভর করবে। আপনার মূল বেতন ৫০% রাখার প্রভাব আপনার বর্তমান মূল বেতনের উপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ল বিমানের জ্বালানির দাম, সাথে মহার্ঘ হল পেট্রোল-ডিজেলও
সামাজিক সুরক্ষা
নতুন শ্রম আইনগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ করা। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা বর্তমানের প্রায় ৯৪০ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১ বিলিয়ন কর্মীর কাছে পৌঁছে দেওয়া। সামাজিক সুরক্ষার আওতা ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০১৫ সালের ১৯% থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬৪%-এর বেশি হবে।












