সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যে সোমবারের জন্য রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে পেনশনভোগীরা অপেক্ষা করছিল, সেই জল্পনার অবসান। অবশেষে প্রতিশ্রুতি মেনেই রাজ্যে চালু হল সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission)। শিক্ষক–শিক্ষিকা থেকে শুরু করে সমস্ত রাজ্যস্তরের কর্মচারীদের জন্য এবার খুশির হাওয়া বইছে। বিজেপির সংকল্পপত্রে আগেই জানানো হয়েছিল যে, সরকার গঠন করলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হবে। আর সেই জল্পনাকেই শিলমোহর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
রাজ্যে কার্যকর সপ্তম বেতন কমিশন
প্রসঙ্গত, রাজ্য বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই তারা সংকল্পপত্রে জানিয়েছিল যে, সরকার গঠন করতে পারলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে, এবং এতে কর্মচারীদের ডিএ থেকে শুরু করে বেতন অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। তবে গত সোমবার নবান্নের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা করেননি। তিনি জানিয়েছিলেন, ডিএ নিয়ে যা আলোচনা তা পরের মন্ত্রিসভাতেই হবে। আর সেখানেই শিলমোহর দিলেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পাল থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষ তথা অন্যান্য মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন রাজ্যজুড়ে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করেছেন। তবে ডিএ নিয়ে আজ কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ১ জুন থেকেই
রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই জানিয়েছিলেন যে, ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে। আর আজ তাতেই অনুমোদন দেওয়া হল। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন তাদের সেই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা ট্রান্সফার করা হবে। আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে না। কিন্তু যারা এতদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাননি তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য খুব তাড়াতাড়ি অনলাইন পোর্টাল খোলা হবে।
এদিকে রাজ্যের চাকরিহারা মামলা নিয়ে বিরাট সুখবর। জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে যে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছিল, সেই মামলা এবার আইনি লড়াইয়ের সর্বোচ্চ মঞ্চ অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল। ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চেই এই মামলা শুনানি হতে পারে বলে খবর। আর আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার শুনানির দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এতে যোগ্য চাকরিহারারা হয়তো তাদের চাকরি ফিরে পেতে পারেন।










