সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইচ্ছা আর জেদ থাকলে যে কোনও কিছুই অসম্ভব থাকে না তা আবারো প্রমাণ করে দিলেন যুবক। সাফল্য কোনও দিন যাদুর ছোঁয়ায় আসে না। বরং নিঃশব্দে বছরের পর বছর ধরে চলা পরিশ্রম আর ধৈর্যের হাত ধরেই আসে। আসলে বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে অংশুমান (Anshuman Raj) রাজের কথা বলছি আমরা। তিনি সেই সত্যের জলজ্যান্ত উদাহরণ। ২০১৯ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ১০৭ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে আজ তিনি একজন সফল আইএএস অফিসার (IAS Officer)। কিন্তু তাঁর এই আকাশছোঁয়া সাফল্য কি রাতারাতি তৈরি হয়েছিল (UPSC Success Story)? কীভাবে তাঁর এই স্বপ্নপূরণ হয়েছিল? সবটাই জানাবো এই আর্টিকেলে।
শৈশব থেকেই লড়াই
জানা যায়, অংশুমানের জন্ম হয় বিহারের বক্সার জেলার নওয়ানগর ব্লকের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাঁর জীবনের শুরুটা কিন্তু আর পাঁচটা সাধারণ গ্রাম্য কিশোরের মতোই ছিল। খুব একটা বিলাসিত নয়, আর অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায় ঠিক সেই সময় যখন তাঁর বাবা রাইস মিল ব্যবসায় বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েন। এমনকি পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে। সেই কঠিন সময় পরিবারের হাল ধরেন তাঁর মা, যিনি পেশায় একজন সরকারি স্কুল শিক্ষিকা। বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও তা নিয়মিত ছিল না। তাই অনেক রাতেই তাঁকে কেরোসিনের ল্যাম্প কিংবা মোমবাতির আলোতে পড়াশোনা করতে হতো। কিন্তু প্রতিকূলতা তাঁর জেদকে থমকাতে পারেনি, বরং বাড়িয়ে দিয়েছিল।
অংশুমানের এই জয় কিন্তু কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না। জানা যায়, তিনি বক্সারের জওহর নবোদয় বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণী এবং পরবর্তী সময়ে রাঁচির নবোদয় বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করেছিলেন। তবে নামিদামি কোনও কোচিং সেন্টার বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই তিনি লড়াকু মানসিকতা নিয়ে এগোতে থাকেন। সেই কারণে তাঁর এই সফর থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সাধারণ সরকারি স্কুল থেকে পড়াশোনা করলেও যদি লক্ষ্য ঠিক থাকে, তাহলে জীবনে ঠিক সফলতা অর্জন করা যায়।
বলে দিই, অংশুমান রাজ একবারে এই সাফল্য পাননি। চতুর্থবার প্রচেষ্টায় তিনি ইউপিএসসি এর চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ইউপিএস-তে তাঁর ১০৭ র্যাঙ্ক হয়। তিনবার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি বলেই তাঁর এই সফলতা। আর তাঁর এই জার্নি ছিল মূলত নিজের ভুলগুলি সংশোধন করার এবং বারবার নিজেকে ফিরে পাওয়ারই এক অদম্য লড়াই।
আরও পড়ুন: হাত বাড়ালেই কাঞ্চনজঙ্ঘা! গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন উত্তরঙ্গের এই ৩ ‘স্বর্গ’ থেকে
আসলে অংশুমানের গল্পটি শুধু একজনকে সিভিল সার্ভেন্টের সাফল্যের গল্প এমনটা নয়। বরং, একটা বিশ্বাসেরও নাম। বর্তমান দিনে দাঁড়িয়ে অনেকেই মনে করেন যে, দামি কোচিং বা আধুনিক ল্যাপটপ, মোবাইল, কম্পিউটার, উচ্চবিত্ত ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া বড় স্বপ্ন অর্জন করা যায় না। তবে অংশুমান সেই দাবি সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে। তাঁর জীবন থেকে শেখার মতো এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা বর্তমান সময়ে হাজার হাজার তরুণ তরুণীদের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি আপনার বিপক্ষে থাকতে পারে। কিন্তু যদি ধৈর্য ও সহনশীলতা থাকে, তাহলে যে সবকিছুই সম্ভব তার জলজ্যান্ত প্রমান এই অংশুমান। এমনকি তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও চতুর্থবার সাফল্য পেয়েছেন তিনি। তাই ব্যর্থতা আসলে সফল হওয়ার একটি ধাপ মাত্র, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।












