বদলে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার সিস্টেম? মুখ খুলল শিক্ষা সংসদ

Published:

WBCHSE

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন শিক্ষানীতির মাঝেই উচ্চ মাধ্যমিকে (Higher Secondary Exam) সেমিস্টার সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে একাধিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। আর এই অবস্থায় প্রকাশ্যে আসে এক চাঞ্চল্যকর বিজ্ঞপ্তি (Notice)। যেখানে দাবি করা হয় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নাকি সেমেস্টার সিস্টেম বাতিল করা হচ্ছে! অর্থাৎ সব পরীক্ষার্থীকে পুরোনো সিলেবাস ও পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে হবে। আর তাতেই তোলপাড় নেট দুনিয়া। শেষে বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন সংসদের (WBCHSE) সভাপতি পার্থ কর্মকার।

ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি সোশ্যাল মিডিয়ায়

গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চমাধ্যমিক সংক্রান্ত একটি ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে সেমিস্টার পদ্ধতি বাতিল করা হচ্ছে। একাদশ ও দ্বাদশে আগের মতোই বার্ষিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। সব স্কুলকে আগের মতোই পুরোনো সিলেবাসে ও পদ্ধতিতে পড়াশোনা এবং পরীক্ষা নিতে হবে। আর এই নোটিশ ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় সকলের মধ্যে তুমুল তর্ক বিতর্ক তৈরি হয়। পরে জানা যায় যে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এ ধরনের কোনও নোটিশ দেয়নি। নতুন সিলেবাস ও সেমেস্টার পদ্ধতি নির্ধারিত নিয়মেই কার্যকর থাকছে।

WBCHSE

বিধাননগর সাইবার থানাতে অভিযোগ দায়ের

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানান যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই খবরের কোনও সত্যতা নেই। এটা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বানানো। সংসদের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্কই নেই। এখানেই শেষ নয়, তিনি এই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নেন। বিধাননগর সাইবার থানাতেও এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তারইমধ্যে সেমেস্টার প্রথা বাতিলের দাবি তুলেছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী। তিনি জানান, “উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রীরা ভীষণভাবে স্কুল বিমুখ হয়ে গিয়েছে। তাই শীঘ্রই সেমেস্টার প্রথা তুলে দিয়ে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ভিত্তিতে উচ্চমাধ্যমিক ফিরিয়ে আনা দরকার।”

আরও পড়ুন: হাতে নগদ ৫৫ হাজার! রয়েছে দুটি জীবনবিমা, পবিত্র করের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী জানেন?

যদিও সেমিস্টার বাতিলের অভিযোগ নিয়ে একই সুর তুলেছিল পড়ুয়া এবং অভিভাবকরাও। তাঁদের অভিযোগ নির্দিষ্ট সময় মতো ছাত্রছাত্রীদের বই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পড়ার জন্য মিলছে কম সময় অন্যদিকে সিলেবাস শেষ করাও দুষ্কর হয়ে পড়ছে। তবে সংসদের তরফে দাবি করা হয় যে এবার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সময়ের হেরফের হয়েছে। আর বইয়ের সমস্যা একমাত্র প্রথম সেমেস্টারেই ছিল। আশা রাখছে পরেরবার থেকে এমন ত্রুটি দেখা যাবে না। প্রসঙ্গত, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই একাদশ শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যক্রম ও সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে।

google button